টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুর্গাপূজার আবহ আবহমান সনাতনী সম্প্রদায়ের উৎসবমুখর পরিবেশকে বিষাদে রূপ দিয়ে পূজামণ্ডপের ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া আর্য সমিতির পূজামণ্ডপে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত হামলায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরদিন ১ অক্টোবর মণ্ডপের সভাপতি প্রকাশ বাকালী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঘটনার গভীর তদন্তে নেমে পুলিশ ইসমাইল হোসেন নামে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করে, যে জামুর্কী পশ্চিমপাড়া গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে। গত ৩ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে 'সাইকো ইসমাইল' নামে পরিচিত এই যুবকের গ্রেপ্তার কেবল একটি অপরাধের সমাধান নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') কারণ, প্রায় ছয় মাস আগেও একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এই একই ইসমাইল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সে সময়ে দায়ের হওয়া মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো একই ধরনের জঘন্য অপরাধ সংগঠিত করায় অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি তার পেছনের ইন্দনদাতাদের খুঁজে বের করার জোর দাবি উঠেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে বারবার আঘাত হানা এবং তাদের নিরাপদে ধর্মপালনের সংবিধিবদ্ধ ও মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই পুনরাবৃত্তি ঘিরে এখন পুরো মির্জাপুর জুড়ে নানা প্রশ্ন, সন্দেহ ও তীব্র সামাজিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মতামত