এই ভাবনা নিয়ে তিনি ভগবান বিষ্ণুর -র কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “ভগবান, আপনার সবচেয়ে বড় ভক্ত কে?”
ভগবান বিষ্ণু উত্তর দেন, একটি গ্রামের এক সাধারণ কৃষকই তাঁর সবচেয়ে বড় ভক্ত।
এ কথা শুনে নারদজি বিস্মিত হন। সত্যতা যাচাই করতে তিনি সেই কৃষকের গ্রামে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, কৃষকটি ভোরে ঘুম থেকে উঠে মাত্র দু’বার “নারায়ণ-নারায়ণ” বলে। এরপর গরুকে খাবার দেয়, নিত্যকর্ম শেষ করে লাঙ্গল-বলদ নিয়ে মাঠে কাজ করতে যায়।
সারাদিন কঠোর পরিশ্রম শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে হাত-মুখ ধুয়ে খাবার খায় এবং ঘুমানোর আগে আবার দু’বার “নারায়ণ-নারায়ণ” বলে শুয়ে পড়ে। অর্থাৎ পুরো দিনে সে মাত্র চারবার ভগবানের নাম উচ্চারণ করে।
এ দৃশ্য দেখে নারদজি অবাক হয়ে যান। তিনি ভাবতে থাকেন—যেখানে তিনি সারাদিন ভগবানের নাম জপ করেন, সেখানে এই কৃষক মাত্র কয়েকবার নাম নেয়। তবুও কেন ভগবান তাকে শ্রেষ্ঠ ভক্ত বললেন?
পরে নারদজি তাঁর সন্দেহের কথা বিষ্ণুকে জানান। তখন বিষ্ণু তাঁকে একটি জলভরা পাত্র দিয়ে বলেন, সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাঁটতে হবে, তবে পাত্র থেকে এক ফোঁটা জলও পড়া চলবে না।
নারদজি সারাদিন সেই পাত্র হাতে নিয়ে হাঁটলেন। তাঁর পেছনে ছিল ভগবানের সুদর্শন চক্র, তাই ভয়ে ও সতর্কতায় তাঁর পুরো মনোযোগ ছিল পাত্রের জলের দিকে। অবশেষে সূর্যাস্তে তিনি সফলভাবে ফিরে এলেন—এক ফোঁটা জলও পড়েনি।
তখন বিষ্ণু জিজ্ঞেস করলেন, “এই সময়ে তুমি কতবার আমার নাম নিয়েছ?”
নারদজি লজ্জিত হয়ে বললেন, “ভগবান, জলের দিকে মনোযোগ রাখতে গিয়ে আপনার নাম নেওয়ার সুযোগই পাইনি।”
তখন বিষ্ণু মৃদু হাসি দিয়ে বললেন, “গৃহস্থ জীবনে হাজারো দায়িত্ব, কাজ ও চিন্তার মাঝেও যদি সেই কৃষক সকাল-সন্ধ্যা আমার নাম নেয়, তবে নিঃসন্দেহে সে-ই আমার শ্রেষ্ঠ ভক্ত।”
এই কাহিনির মূল শিক্ষা হলো—সত্যিকারের ভক্তি কেবল মুখে নাম জপে নয়, বরং দায়িত্ব পালন করতে করতেও ঈশ্বরকে স্মরণ করার মধ্যেই নিহিত।
মতামত