চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ গ্রামে পরমহংস শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের শুভ আবির্ভাব তিথি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপন উপলক্ষে ১৯তম বর্ষব্যাপী মহোৎসব, মহতী ধর্মসভা ও অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২১, ২২ ও ২৩ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ (৬, ৭ ও ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) তিন দিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজন আমিলাইশ দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের জীবনাদর্শ, মানবপ্রেম, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সার্বজনীন ধর্মচেতনা তুলে ধরতেই এ মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্ত-অনুরাগীদের পদচারণায় মুখরিত হবে অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ২১ মার্চ শনিবার বিকাল থেকে ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে ভজন, কীর্তন এবং হরিনাম সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যার পর শুরু হবে মহতী ধর্মসভা, যেখানে দেশবরেণ্য ধর্মীয় বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করবেন।
২২ মার্চ রবিবার পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ, ধর্মীয় আলোচনা এবং অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অব্যাহত থাকবে। দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন বিশিষ্ট ধর্মীয় আলোচকবৃন্দ। এছাড়া সভাপতিত্ব করবেন শ্রী সনাতন দাশ, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শ্রী প্রদীপ কুমার দাশ এবং সহ-সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন শ্রী সুজন দাশ (রেকু)।
বিশেষ ধর্মীয় বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পণ্ডিত ও আচার্যবৃন্দ, যারা শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের জীবন ও আদর্শ, ভক্তি, প্রেম ও মানবসেবার গুরুত্ব তুলে ধরবেন।
আয়োজক সংগঠন ‘আমিলাইশ পল্লী কল্যাণ সংঘ’ জানায়, এই মহোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি অনন্য মাধ্যম। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে এ উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মহোৎসবকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে এবং আগত ভক্তদের জন্য সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আয়োজিত এই মহোৎসব ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, আধ্যাত্মিক চর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক মহামিলনমেলায় পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
মতামত