কালক্রমে জঙ্গলঘেরা এই পবিত্র স্থানটি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিল। তবে মহাদেবের লীলা অসীম। জনশ্রুতি আছে, নূর মোহাম্মদ সিকদার নামক স্থানীয় এক ব্যক্তির গোয়ালঘরের একটি দুগ্ধবতী গাভী প্রতিদিন মৈনাক পাহাড়ের নির্জনে চলে যেত। কৌতূহলী নূর মোহাম্মদ একদিন লক্ষ্য করেন, পাহাড়ের এক বিশেষ শিলাখণ্ডের ওপর গাভীটি দাঁড়িয়ে আছে এবং তার বাঁট থেকে আপনাআপনি দুধ ঝরছে। সেই রাতেই তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হন সেখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা ও পূজা অর্চনার জন্য হিন্দু জমিদারদের অবগত করতে। মহাদেবের কৃপায় একজন ভিন্নধর্মী মানুষের মাধ্যমে এই পবিত্র স্থানটি পুনরায় আবিষ্কৃত হয়, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেয়েও বড় করে তুলে ধরে আদিনাথের অলৌকিক মহিমা

পরবর্তীতে তৎকালীন প্রভাবশালী জমিদাররা সেখানে মন্দির নির্মাণ করেন। নবাব আলীবর্দী খাঁ-র আমলে দেওয়ান ব্রজকিশোর লাল কানুনগোর প্রতিনিধি দেওয়ান কালীচরণ এবং কিশোর শরৎচন্দ্র এই দ্বীপটি ক্রয় করেন। পরে শরৎচন্দ্র নাগা সন্ন্যাসী গোরক্ষনাথের সান্নিধ্যে এসে এই বিশাল জমিদারি সম্পত্তি আদিনাথের চরণে ‘দেবোত্তর সম্পত্তি’ হিসেবে উৎসর্গ করে যান।
এই মন্দিরের অন্যতম এক বিস্ময় হলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ‘জোড়া পুকুর’। আদিনাথ মন্দিরের ঠিক পেছনেই অবস্থিত এই পুকুর দুটির জল তীব্র খরাতেও কখনো শুকায় না, যা আজও বিজ্ঞান ও যুক্তির ঊর্ধ্বে এক দৈব রহস্য হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর শিবরাত্রির পুণ্যতিথিতে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মৈনাক পর্বত। ভক্তদের বিশ্বাস, ভক্তিভরে আদিনাথের চরণে মাথা নত করলে জাগতিক সকল দুঃখ থেকে মুক্তি মেলে। জয় বাবা আদিনাথ।
মতামত