সনাতন ধর্মের অবিনাশী ঐতিহ্য আর ভক্তি ও বিশ্বাসের এক মহাতীর্থে পরিণত হয়েছে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর। ৫৩১ বছরের প্রাচীন পরম্পরা মেনে ইছামতী নদীর তীরে আজ শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রক্ষা কালী পূজা। ৫ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই পুণ্যময় আয়োজনকে কেন্দ্র করে সমগ্র বিক্রমপুর জনপদে এখন উৎসবের আমেজ। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকেই সড়ক ও নৌপথে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানকার অধিষ্ঠাত্রী দেবী অত্যন্ত জাগ্রত, যার আশীর্বাদ কামনায় প্রতি বছর এই দিনে দেশ-বিদেশের অগণিত মানুষ এখানে সমবেত হন।
এবারের আয়োজনে কেবল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বরং সীমান্ত ছাড়িয়ে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অগণিত ভক্ত শেখরনগরে উপস্থিত হয়েছেন। বিশাল এই জনসমুদ্রই প্রমাণ করে যে, কালের বিবর্তনেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হৃদয়ে এই তীর্থস্থানের মহিমা বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি। ধর্মীয় শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী ও প্রাচীন রীতি মেনে দেবীর চরণে পাঠা ও কবুতর বলিদানের মাধ্যমে চলছে শক্তির আরাধনা। ঢাকের কাঠি আর শঙ্খধ্বনিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে, যা ভক্তদের মনে এক অলৌকিক আধ্যাত্মিক চেতনার সৃষ্টি করছে।

পূজাকে কেন্দ্র করে ইছামতীর তীর ঘেঁষে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। মেলার হরেক রকম পণ্যের পসরা আর ভক্তদের কোলাহলে শেখরনগর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এই পূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য রক্ষা ও সংহতির এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় আয়োজকরা জানান, শত বছরের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পেরে তারা গর্বিত এবং ভক্তদের জন্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে মন্দির কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইছামতীর স্রোতধারা যেমন চিরকাল বহমান, তেমনি শেখরনগরের এই আধ্যাত্মিক শিখাও প্রজ্বলিত থাকবে যুগ থেকে যুগান্তরে—এমনটাই প্রত্যাশা আগত পুণ্যার্থীদের।
মতামত