২৫শে মার্চের সেই মধ্যরাতের পর, অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। এর পরপরই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। বিদেশি সাংবাদিকদের জোরপূর্বক শহর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সত্য ঢাকা থাকেনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাইমন ড্রিংয়ের মতো সাংবাদিকরা সেই নৃশংসতার চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছিলেন। আজ সেই ভয়াল স্মৃতির ৫৫ বছর পেরিয়ে এসেও সেই কালরাতের প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক স্বাধীন ভূখণ্ড পাওয়ার পেছনের অপরিসীম ত্যাগ আর রক্তস্নাত ইতিহাস। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই সব আত্মোৎসর্গকারী বীর সন্তানদের, যাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল এই বাংলার মাটি।
#আজ সেই ভয়াল ২৫শে মার্চ কালরাত: রক্তের স্রোতে ভিজেছিল বাংলার নগরী
আজ সেই ২৫শে মার্চ, বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অন্তহীন বেদনার দিন। ১৯৭১ সালের এই কৃষ্ণপক্ষের রাতেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞ শুরু করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। মধ্যরাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক আর স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র নিয়ে নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা। আধুনিক সমরশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যার নীল নকশা বাস্তবায়ন করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে যে অবর্ণনীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছিল, তা আজও ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
সেই রাতে পাকবাহিনীর মূল আক্রোশের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। বিশেষ করে জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর চালানো হয়েছিল নির্মম অত্যাচার। একই সাথে পিলখানার ইপিআর সদর দপ্তর এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল অগণিত দেশপ্রেমিক বীরদের। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পলায়নরত মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। অগ্নিকুণ্ড আর লাশের স্তূপে পরিণত হয়েছিল তৎকালীন জনপদ। বর্বরতার সেই চরম সীমায় দাঁড়িয়েও বাঙালির অদম্য সাহস ও প্রতিরোধের আগুন দমে যায়নি।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত