স্নানোৎসব উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্রের রমনাঘাট থেকে জোড়গাছ পুরাতন বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে বিশাল মেলা। মেলা প্রাঙ্গণে মাটির তৈরি দেব-দেবীর মূর্তির পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্য, তৈজসপত্র এবং শিশুদের খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বিনোদনের জন্য বাইস্কোপ ও সার্কাসসহ নানা আয়োজন উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি কর্ণধর বর্মা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও কেবল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নয়, বরং ভারত ও চীনসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও অসংখ্য সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থী এই উৎসবে যোগ দিচ্ছেন। ভক্তদের সেবা ও বিশ্রামের জন্য মেলা কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্নান মেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মিলন চন্দ্র বর্মণ। তিনি জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও সেবামূলক ব্যবস্থা। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, সরকারি উদ্যোগে মেলা প্রাঙ্গণে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য নলকূপ এবং নারীদের কাপড় পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিলমারী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, উৎসবের নিরাপত্তায় দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন এবং স্বেচ্ছাসেবক দল পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে কাজ করছে। সব মিলিয়ে ব্রহ্মপুত্রের তটে এখন এক আধ্যাত্মিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
মতামত