এই পূজার মাহাত্ম্য কেবল শাস্ত্রীয় বিধিতে সীমাবদ্ধ নয়, এর সামাজিক গুরুত্বও অপরিসীম। বাসন্তী পূজা আমাদের শেখায় যে ধৈর্য এবং ভক্তির মাধ্যমে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব। রাজা সুরথ নিজের হৃত রাজ্য ফিরে পেতে এবং সমাধি বৈশ্য মানসিক শান্তি অর্জনে দেবীর শরণাপন্ন হয়েছিলেন। বর্তমান যুগেও আমাদের ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে যখন অস্থিরতা দেখা দেয়, তখন এই মহাশক্তির আরাধনা আমাদের আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য ধারণের শক্তি জোগায়। বিজয়া দশমীর কোলাকুলি ও প্রণাম বিনিময়ের রীতিটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মানব কল্যাণে আমাদের করণীয় সম্পর্কে আজকের এই দিনটি এক বিশেষ বার্তা দেয়। বিজয়া দশমীর প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রকাশ পাবে, যখন আমরা অন্তরের কাম, ক্রোধ, লোভ ও অহংকার রূপী অসুরদের বিসর্জন দিতে পারব। মানবসেবাই যে প্রকৃত ঈশ্বর সেবা, এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আমাদের আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানো উচিত। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের দুঃখ মোচন, পরিবেশ রক্ষা এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া হলো আজকের দিনের শ্রেষ্ঠ সংকল্প। মা দুর্গা যেমন অশুভকে বিনাশ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তেমনি আমাদেরও উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সমাজের মঙ্গলে নিজেকে উৎসর্গ করা। এই ত্যাগের মানসিকতা এবং পরোপকারই হতে পারে বাসন্তী পূজার প্রকৃত বিজয়া বার্তা।
অবশেষে, "আসছে বছর আবার হবে" এই চিরন্তন আশার বাণী বুকে নিয়ে আমরা দেবীকে বিদায় জানাই। বিসর্জনের জলে প্রতিমা বিলীন হলেও দেবীর আদর্শ যেন আমাদের কর্ম ও চিন্তায় প্রবহমান থাকে। আজকের এই বিজয়া দশমী সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ, সুস্বাস্থ্য এবং সম্প্রীতির অটুট বন্ধন। সকলের কল্যাণ হোক, জগতের মঙ্গল হোক—এই প্রার্থনা নিয়ে সমাপ্ত হোক এই বছরের বাসন্তী দুর্গোৎসব।
মতামত