বাড়ির মালিক আব্দুল হাকিম জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তারা এই বাড়িতে বসবাস করলেও সিঁড়ির নিচের ওই রহস্যময় পাত্রটি নিয়ে তাদের মাঝে সবসময়ই এক প্রকার কৌতূহল কাজ করত। ভবন ভাঙার কারিগর মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই মাস ধরে কাজ করার পর মাটির গভীর থেকে যখন মটকাটি সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসে, তখন তারা এর বিশালত্ব দেখে অবাক হয়ে যান। যদিও মটকাটির ভেতরে পানি, কাদা আর কিছু প্রাচীন ইট-সুরকি ছাড়া বিশেষ কোনো গুপ্তধন বা প্রত্নবস্তু পাওয়া যায়নি, তবে এর নির্মাণশৈলী ও আকার প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ মৃৎশিল্পের এক অনন্য সাক্ষ্য বহন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় গুণীজনেরা।
স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও প্রবীণ অধিবাসীরা এই প্রাপ্তিকে বন্দরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ‘কিশোর ভবন’ নামটি এবং মাটির নিচে এই প্রাচীন পাত্রের অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, এককালে এই জনপদে সনাতন সংস্কৃতির গভীর প্রভাব ছিল। পরিবারের সদস্য সাবরিনা ইসলাম লতা জানান, মটকাটি জনসমক্ষে আসার পর তারা এটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করলে এই নিদর্শনের সঠিক নির্মাণকাল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে মটকাটি নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনযাত্রার এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মতামত