শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

বন্দরে জরাজীর্ণ ভবন ভাঙতেই মিলল রহস্যময় মটকা


| প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দরে জরাজীর্ণ ভবন ভাঙতেই মিলল রহস্যময় মটকা
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
নারায়ণগঞ্জের পুণ্যভূমি বন্দরে একটি জরাজীর্ণ প্রাচীন ভবন ভাঙার কাজ চলাকালীন মাটির নিচে লুক্কায়িত এক বিশাল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় ‘কিশোর ভবন’ নামক একটি দোতলা বাড়ির নিচতলায় এই বিশালাকৃতির মাটির মটকাটি উদ্ধার করা হয়। প্রাচীন এই নিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে অসংখ্য উৎসুক মানুষ ঐতিহ্যের এই নিদর্শনটি দেখতে ভিড় জমায়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে এটিকে শত বছরেরও বেশি পুরনো নিদর্শন বলে ধারণা করছেন।


​ঐতিহাসিক সূত্রের সন্ধানে জানা যায়, প্রায় ৪ শতক জমির ওপর নির্মিত এই ‘কিশোর ভবন’টি কয়েক দশক আগে থেকেই এলাকায় একটি প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে বাড়ির মালিক আব্দুল হাকিম ও তার ভাইয়েরা প্রায় ২৬ বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ওমর আলীর কাছ থেকে বাড়িটি ক্রয় করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তারা ওই ভবনে বসবাস করলেও জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রশাসন থেকে ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। অর্থাভাবে এতদিন কাজ শুরু করতে না পারলেও মাস পাঁচেক আগে মালিকপক্ষ ভবনটি অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ভবন ভাঙার দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা জানান, সিঁড়ির নিচে আগে থেকেই একটি পাত্রের মুখ দৃশ্যমান ছিল, তবে মাটি খনন করার পর বেরিয়ে আসে বিস্ময়কর এই পূর্ণাঙ্গ বিশাল মটকা।

​বাড়ির মালিক আব্দুল হাকিম জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তারা এই বাড়িতে বসবাস করলেও সিঁড়ির নিচের ওই রহস্যময় পাত্রটি নিয়ে তাদের মাঝে সবসময়ই এক প্রকার কৌতূহল কাজ করত। ভবন ভাঙার কারিগর মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই মাস ধরে কাজ করার পর মাটির গভীর থেকে যখন মটকাটি সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসে, তখন তারা এর বিশালত্ব দেখে অবাক হয়ে যান। যদিও মটকাটির ভেতরে পানি, কাদা আর কিছু প্রাচীন ইট-সুরকি ছাড়া বিশেষ কোনো গুপ্তধন বা প্রত্নবস্তু পাওয়া যায়নি, তবে এর নির্মাণশৈলী ও আকার প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ মৃৎশিল্পের এক অনন্য সাক্ষ্য বহন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় গুণীজনেরা।

​স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও প্রবীণ অধিবাসীরা এই প্রাপ্তিকে বন্দরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ‘কিশোর ভবন’ নামটি এবং মাটির নিচে এই প্রাচীন পাত্রের অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, এককালে এই জনপদে সনাতন সংস্কৃতির গভীর প্রভাব ছিল। পরিবারের সদস্য সাবরিনা ইসলাম লতা জানান, মটকাটি জনসমক্ষে আসার পর তারা এটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করলে এই নিদর্শনের সঠিক নির্মাণকাল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে মটকাটি নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনযাত্রার এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বন্দরে জরাজীর্ণ ভবন ভাঙতেই মিলল রহস্যময় মটকা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image
নারায়ণগঞ্জের পুণ্যভূমি বন্দরে একটি জরাজীর্ণ প্রাচীন ভবন ভাঙার কাজ চলাকালীন মাটির নিচে লুক্কায়িত এক বিশাল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় ‘কিশোর ভবন’ নামক একটি দোতলা বাড়ির নিচতলায় এই বিশালাকৃতির মাটির মটকাটি উদ্ধার করা হয়। প্রাচীন এই নিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে অসংখ্য উৎসুক মানুষ ঐতিহ্যের এই নিদর্শনটি দেখতে ভিড় জমায়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে এটিকে শত বছরেরও বেশি পুরনো নিদর্শন বলে ধারণা করছেন।


​ঐতিহাসিক সূত্রের সন্ধানে জানা যায়, প্রায় ৪ শতক জমির ওপর নির্মিত এই ‘কিশোর ভবন’টি কয়েক দশক আগে থেকেই এলাকায় একটি প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে বাড়ির মালিক আব্দুল হাকিম ও তার ভাইয়েরা প্রায় ২৬ বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ওমর আলীর কাছ থেকে বাড়িটি ক্রয় করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তারা ওই ভবনে বসবাস করলেও জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রশাসন থেকে ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। অর্থাভাবে এতদিন কাজ শুরু করতে না পারলেও মাস পাঁচেক আগে মালিকপক্ষ ভবনটি অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ভবন ভাঙার দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা জানান, সিঁড়ির নিচে আগে থেকেই একটি পাত্রের মুখ দৃশ্যমান ছিল, তবে মাটি খনন করার পর বেরিয়ে আসে বিস্ময়কর এই পূর্ণাঙ্গ বিশাল মটকা।

​বাড়ির মালিক আব্দুল হাকিম জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তারা এই বাড়িতে বসবাস করলেও সিঁড়ির নিচের ওই রহস্যময় পাত্রটি নিয়ে তাদের মাঝে সবসময়ই এক প্রকার কৌতূহল কাজ করত। ভবন ভাঙার কারিগর মোহাম্মদ আবুল হোসেনের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই মাস ধরে কাজ করার পর মাটির গভীর থেকে যখন মটকাটি সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসে, তখন তারা এর বিশালত্ব দেখে অবাক হয়ে যান। যদিও মটকাটির ভেতরে পানি, কাদা আর কিছু প্রাচীন ইট-সুরকি ছাড়া বিশেষ কোনো গুপ্তধন বা প্রত্নবস্তু পাওয়া যায়নি, তবে এর নির্মাণশৈলী ও আকার প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ মৃৎশিল্পের এক অনন্য সাক্ষ্য বহন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় গুণীজনেরা।

​স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও প্রবীণ অধিবাসীরা এই প্রাপ্তিকে বন্দরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ‘কিশোর ভবন’ নামটি এবং মাটির নিচে এই প্রাচীন পাত্রের অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, এককালে এই জনপদে সনাতন সংস্কৃতির গভীর প্রভাব ছিল। পরিবারের সদস্য সাবরিনা ইসলাম লতা জানান, মটকাটি জনসমক্ষে আসার পর তারা এটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করলে এই নিদর্শনের সঠিক নির্মাণকাল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে মটকাটি নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনযাত্রার এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
বন্দরে জরাজীর্ণ ভবন ভাঙতেই মিলল রহস্যময় মটকা
0:00 0:00
1.0x