ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে এবার এক নতুন সমীকরণের উদয় হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ বিদ্ধ ডিএমকে সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিতে ময়দানে নেমেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় থালাপতি। তার নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে) আসন্ন নির্বাচনে ২৩৪টি আসনেই লড়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষত, অভিনেতা থেকে জননেতায় রূপান্তরিত বিজয় নিজে পেরাম্বুর এবং ত্রিচি ইস্ট—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা বর্তমানে ক্ষমতাসীন ডিএমকে-র দখলে রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় বিজয় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন এবং তার পরিবারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। নিজের দলের প্রতীক ‘হুইসেল’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি একে একটি ‘হুইসেল বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেতা তামিলনাড়ুর ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তারা যেন তাকে এবং তার দলের সাধারণ পটভূমি থেকে আসা প্রার্থীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করেন। বিজয়ের মতে, তার দলের প্রার্থীরা কলঙ্কমুক্ত এবং জনসেবায় নিবেদিত, যা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ঠিক উল্টো চিত্র। তিনি এই নির্বাচনকে মূলত তার ‘জনগণের জোট’ বনাম স্ট্যালিনের জোটের মধ্যে এক সরাসরি লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আগামী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনটি পাঁচমুখী লড়াইয়ের রূপ নিলেও সবার নজর কাড়ছেন বিজয়। ডিএমকে-র অপশাসনের বিরুদ্ধে তিনি মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু গঠন, বেকার ভাতা প্রদান এবং সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী ভাবাবেগ ও শুদ্ধ রাজনীতির প্রত্যাশায় থাকা ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজয়ের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বড় চমক হিসেবে দেখা যাচ্ছে ডিএমকে-র শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের কৌশলী প্রার্থী নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে কোলাথুর আসনে লড়বেন ভিএস বাবু এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে চিপাউক আসনে প্রার্থী করা হয়েছে প্রভাবশালী সাবেক কংগ্রেস নেতা সেলভামকে। এ ছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুন ভিলিভাক্কাম থেকে লড়বেন। একদিকে বিজেপি ও এআইএডিএমকে জোটের পুনরুত্থানের চেষ্টা, আর অন্যদিকে বিজয়ের এই শক্তিশালী অভিষেক—সব মিলিয়ে স্ট্যালিন সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে দক্ষিণ ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে।
মতামত