ভোর থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয় পূজার প্রস্তুতি। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুভ সূচনা লাভ করে। ধূপ-ধুনোর সুবাস, ঘণ্টাধ্বনি এবং ভক্তদের একত্রিত নামসংকীর্তনে পুরো এলাকা যেন এক আধ্যাত্মিক আবহে রূপ নেয়।
মায়ের বাৎসরিক পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য ভক্তবৃন্দ। দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা মায়ের আশীর্বাদ লাভের আশায় সারিবদ্ধভাবে পূজা অর্চনায় অংশগ্রহণ করছেন। নারী, পুরুষ, শিশু—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়।
স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পূজার আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ, ভোগের আয়োজন এবং সার্বক্ষণিক সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আয়োজকরা জানান, “মায়ের কৃপা ও ভক্তদের সহযোগিতায় প্রতিবছরই এই পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আমরা চাই, সকলের অংশগ্রহণে এই ধর্মীয় উৎসব আরও সার্থক ও আনন্দময় হয়ে উঠুক।”
পূজাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আরতি, কীর্তন এবং ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, যা মন্দির প্রাঙ্গণকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। পুরো দিনব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজন ভক্তদের মাঝে এনে দিয়েছে গভীর আত্মিক প্রশান্তি ও ভক্তির অনন্য অনুভূতি।
ভোলা জেলার এই ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মাতার মন্দির শুধুমাত্র একটি পূজাস্থল নয়, এটি ভক্তদের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক পবিত্র কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।


মতামত