২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেছে। এ মামলায় পুলিশের কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও এএসআই আমির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই মামলায় এসআই বিভূতি ভূষণ রায় (মাধবকর)-সহ কয়েকজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং বাকি আসামিদের ১০ বছর, ৫ বছর ও ৩ বছরের বিভিন্ন মেয়াদের সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় পড়া শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে এই রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। পুলিশের গুলির সামনে হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের সেই দৃশ্য পরবর্তীতে সারা দেশে আলোড়ন তোলে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালতের রায়ে পুলিশের কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং এএসআই আমির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মনিরুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া-কে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন, তৎকালীন উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন এবং অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী-কে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহসভাপতি ফজলে রাব্বী, সহসভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান, এবং এমএলএসএস একে এম আমির হোসেন-কে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের ক্ষেত্রে সশ্রম কারাদণ্ড এবং কয়েকজনের ক্ষেত্রে বিনাশ্রম কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
মতামত