সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা-এর এনায়েতপুর থানার খামারগ্রামে অবস্থিত প্রাচীন শিবমন্দিরটি আজও বহন করে চলেছে শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল সাক্ষ্য। যমুনা নদীর তীরবর্তী শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত এই মন্দিরটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এক উপাসনালয় হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরটি এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়-এর নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এটি সহজেই সবার নজরে আসে। তবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কেবল অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর নির্মাণশৈলী ও অতীত ইতিহাসই এটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মন্দির স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মন্দিরটি আটচালা বা চারচালা রীতিতে নির্মিত। একসময় এর গায়ে ছিল দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটার কারুকাজ, যেখানে পৌরাণিক কাহিনী, ফুল-লতা ও নানান নকশা খোদাই করা ছিল। যদিও সময়ের সাথে সাথে এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক কারুকার্য নষ্ট হয়ে গেছে, তবুও এখনো কিছু ধ্বংসাবশেষ সেই অতীত গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। স্থানীয়দের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার কাজের মাধ্যমে মন্দিরটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ধর্মীয় দিক থেকেও এই শিবমন্দিরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এখানে ভক্তরা শিবের পূজা-অর্চনা করেন। বিশেষ করে মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বৃহৎ উৎসব ও মেলা, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটে। এছাড়া বাংলা নববর্ষে অনুষ্ঠিত চড়ক পূজাও এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন, যা দেখতে প্রতি বছর অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন।
শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবেই নয়, এনায়েতপুরের এই শিবমন্দিরটি স্থানীয় মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে রক্ষা ও সংরক্ষণে মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়, যা এ অঞ্চলের সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
মতামত