চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহতের ঘটনায় দায়ের করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন মঞ্জুর করেননি হাইকোর্ট। রোববার (১০ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চিন্ময় প্রভুর জামিন সংক্রান্ত রুল খারিজ করে এই আদেশ প্রদান করেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অপর চার মামলায় জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালতে চিন্ময় প্রভুর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শায়লা শারমিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলামিন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রদ্রোহের একটি সাজানো মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও রহস্যজনকভাবে আরও পাঁচটি পৃথক মামলায় শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মূলত সনাতনী জাগরণ জোটের জোরালো ভূমিকার কারণে তাঁকে কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই আধ্যাত্মিক নেতাকে কারান্তরীণ রাখা হয়েছে।
এদিকে উচ্চ আদালতের এই আদেশে দেশব্যাপী সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। ভক্ত ও অনুসারীদের দাবি, শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একজন অহিংস সন্ন্যাসী, যাঁর জীবনাদর্শ কেবল ধর্ম ও মানবসেবার ওপর প্রতিষ্ঠিত। একজন আত্মত্যাগী সন্ন্যাসী কখনো হত্যা বা সহিংসতার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হতে পারেন না এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দেন না। তাঁকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এবং সনাতনী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার জন্য মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে আটকে রাখা হয়েছে।
সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ একসুরে রাজপথে প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন, চিন্ময় প্রভু সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাকে বিনাশর্তে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না। বাংলাদেশের সকল শান্তিকামী সনাতনী আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রিয় আধ্যাত্মিক নেতার অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে। দেশের আইন বিভাগ ও সরকারের প্রতি তাঁদের আহ্বান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে একজন সন্ন্যাসীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক তাঁকে দ্রুত জনসম্মুখে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়া হোক।
মতামত