মানুষ মানুষের জন্য"—এই চিরন্তন বাণীকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এক অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করলেন হরিদাস। সমাজের অবহেলিত ও অসহায় তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, প্রকৃত ধর্ম সেবার মাঝেই নিহিত। যারা এত দিন বিভিন্ন কারণে তাঁর সমালোচনা করেছেন, আজ তাঁদের চোখ খুলে দেওয়ার মতো এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করলেন তিনি।দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা আর অনাদরে দিন কাটছিল তিন ভাইয়ের। তাঁদের অসহায়ত্বের কথা শুনে অনেক বড় সংগঠন নিরব থাকলেও, হরিদাস এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে এগিয়ে এসেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির’ হবে এই তিন ভাইয়ের নতুন ঠিকানা। সনাতনী বৃদ্ধাশ্রমে পরিবারের একজন সদস্যের মতো তাদের যাবতীয় ভরণ-পোষণ ও সেবার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের সংকল্প করেছেন তিনি।হরিদাস কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, "আমি কাজে বিশ্বাসী, লোক দেখানো প্রচারণায় নয়। আইনি সকল নিয়ম মেনে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমি এই তিন ভাইকে মন্দিরে নিয়ে আসতে চাই। আমার সনাতনী ভক্তদের সহযোগিতায় তাদের বাকি জীবনটা আমি সুন্দর ও আরামদায়ক করে তুলতে চাই।" তাঁর এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো—মানুষের দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

তিনি আরও যোগ করেন, "একজন মানুষ অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে এসে আজ যদি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে, তবে তার এই ভালো কাজকে সম্মান জানানোই প্রকৃত মানবিকতা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে তাঁর বিনীত অনুরোধ, এই অসহায় তিন ভাইয়ের পুনর্বাসনে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত যাতে তাদের একটি সুন্দর আশ্রয় নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য তিনি প্রশাসন ও সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
হরিদাসের এই মহান উদ্যোগ আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল—ধর্ম মানে কেবল আচার পালন নয়, ধর্ম মানে মানুষের চোখের জল মোছানো এবং অসহায়ের পাশে আশ্রয় হয়ে দাঁড়ানো।
মতামত