বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমেছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চমক দত্ত এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের একই বর্ষের শান্ত দেব। দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে তাঁরা পুকুরে নামেন। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে যান চমক ও শান্ত। বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা এক মুহূর্ত দেরি না করে তাঁদের উদ্ধারে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রায় ১০ মিনিটের চেষ্টায় চমককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শান্তকে খুঁজে পেতে সময় লাগে আরও প্রায় ৪০ মিনিট।
পানির নিচ থেকে দুজনকে উদ্ধারের পর দ্রুত চুয়েটের মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ভারী হয়ে ওঠে চুয়েট ক্যাম্পাসের পরিবেশ। সহপাঠীদের চোখে জল, বন্ধুদের কণ্ঠে হাহাকার—কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, কিছুক্ষণ আগেও যাঁরা তাঁদের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা আর কখনো ফিরে আসবেন না।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, এর মাত্র ১৫ দিন আগেই একই পুকুরে ডুবে মারা গিয়েছিলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। একটি মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই একই স্থানে আরও দুটি প্রাণহানি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে।
পরপর দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুকুরটির পানি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।
নিহত চমক দত্ত ও শান্ত দেবের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। তাঁদের মরদেহ নিজ গ্রামে পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। শেষবারের মতো প্রিয় সহপাঠীদের বিদায় জানাতে ওই বাসে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরাও তাঁদের সঙ্গে যেতে পারবেন।
একই পুকুরে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যু চুয়েট পরিবারের জন্য এক গভীর ক্ষত হয়ে রইল। যে পুকুর একসময় শিক্ষার্থীদের কাছে ছিল স্বাভাবিক ক্যাম্পাস জীবনের একটি অংশ, পরপর প্রাণহানির ঘটনায় সেটিই এখন হয়ে উঠেছে শোক আর আতঙ্কের প্রতীক।
মতামত