এই সংকট অনুসন্ধানে কলোনির বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতার শিকার। মূলত তীব্র অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই আজ এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দিনরাত পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা এসব পরিবারের পক্ষে নিজেদের সীমিত আয়ে স্থায়ীভাবে সম্মানজনক সম্মানি দিয়ে একজন পুরোহিত বা ধর্মগুরু রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, দেশের বড় বড় সনাতন ধর্মীয় সংগঠন বা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের তরফ থেকেও প্রান্তিক হরিজন কলোনির মন্দিরগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় নজর দেওয়া হয়নি। ফলে অবহেলা আর অযত্নে কলোনির এই পবিত্র স্থানগুলো কেবল নামমাত্র উপাসনালয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ গড়ার কোনো পাঠশালা নেই।
মানবাধিকার গবেষকদের মতে, ধর্মীয় ও সুনির্দিষ্ট নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতিতে প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই শিশুরা সহজেই বিপথগামী হওয়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে। অথচ সঠিক ধারার ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ পেলে এসব শিশু নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারত এবং সব বিভেদ ভুলে আত্মমর্যাদা নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত। কলোনির সচেতন মহল ও অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টসহ দেশের শীর্ষ সনাতনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সংকট উত্তরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠনগুলোও যদি অন্তত সপ্তাহে একদিন এই শিশুদের মাঝে গীতা শিক্ষা ও নৈতিক পাঠ দানের উদ্যোগ নেয়, তবে এই অন্ধকারের মেঘ কাটতে শুরু করবে। মন্দির কেবল প্রার্থনার জায়গা নয়, এটি মানবতা ও নৈতিকতার উৎস কেন্দ্র; হরিজন কলোনির মন্দিরগুলোতে অবিলম্বে ধর্মগুরু নিয়োগ নিশ্চিত করে এই অবহেলিত শিশুদের মাঝে আলোর দিশা ছড়িয়ে দেওয়া আজ সময়ের দাবি।
মতামত