হিন্দুস নিউজ

যেখানে মন্দির শুধুই উপাসনালয়, মানুষ গড়ার পাঠশালা নয়: হরিজন কলোনির করুণ বাস্তবতা


| প্রিন্ট সংস্করণ

যেখানে মন্দির শুধুই উপাসনালয়, মানুষ গড়ার পাঠশালা নয়: হরিজন কলোনির করুণ বাস্তবতা
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রায় প্রতিটি হরিজন কলোনিতে বাসিন্দাদের নিজস্ব অকৃত্রিম আবেগ ও নিষ্ঠায় গড়ে উঠেছে একটি করে কেন্দ্রীয় মন্দির। সকাল-সন্ধ্যা প্রদীপ প্রজ্বলন, ধূপের সুবাস আর নিয়মিত আরাধনার মধ্য দিয়ে এই মন্দিরগুলো হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তবে এই ধর্মীয় আবহের অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ও বেদনাদায়ক শূন্যতা। দেশের অধিকাংশ হরিজন কলোনির কেন্দ্রীয় মন্দিরে নেই কোনো স্থায়ী ধর্মগুরু বা পুরোহিত। ফলে সনাতন ধর্মের মূলধারা থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বেড়ে উঠছে তাদের কোমলমতি শিশুরা। শৈশব থেকেই তারা বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে, যা একটি সুস্থ ও আত্মমর্যাদাশীল সমাজ গঠনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।


​একটি শিশুর চরিত্র গঠন, আদর্শ জীবনচেতনা ও আত্মপরিচয় বিকাশে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু হরিজন কলোনিগুলোর现实 চিত্র অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কলোনিতে চকচকে মন্দির প্রাঙ্গণ থাকলেও সেখানে নিয়মিত কোনো গীতা পাঠ, ধর্মীয় নীতিশিক্ষা কিংবা সনাতন সংস্কৃতির সারমর্ম চর্চা করার সুযোগ নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা পূজা-পার্বণের বাহ্যিক ঢাক-ঢোল ও ধর্মীয় আচারগুলো দেখলেও সনাতন ধর্মের গূঢ় দর্শন, সত্য, সুন্দর ও মানবতার মূল বার্তা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।

​এই সংকট অনুসন্ধানে কলোনির বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতার শিকার। মূলত তীব্র অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই আজ এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দিনরাত পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা এসব পরিবারের পক্ষে নিজেদের সীমিত আয়ে স্থায়ীভাবে সম্মানজনক সম্মানি দিয়ে একজন পুরোহিত বা ধর্মগুরু রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, দেশের বড় বড় সনাতন ধর্মীয় সংগঠন বা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের তরফ থেকেও প্রান্তিক হরিজন কলোনির মন্দিরগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় নজর দেওয়া হয়নি। ফলে অবহেলা আর অযত্নে কলোনির এই পবিত্র স্থানগুলো কেবল নামমাত্র উপাসনালয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ গড়ার কোনো পাঠশালা নেই।

​মানবাধিকার গবেষকদের মতে, ধর্মীয় ও সুনির্দিষ্ট নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতিতে প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই শিশুরা সহজেই বিপথগামী হওয়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে। অথচ সঠিক ধারার ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ পেলে এসব শিশু নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারত এবং সব বিভেদ ভুলে আত্মমর্যাদা নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত। কলোনির সচেতন মহল ও অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টসহ দেশের শীর্ষ সনাতনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সংকট উত্তরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠনগুলোও যদি অন্তত সপ্তাহে একদিন এই শিশুদের মাঝে গীতা শিক্ষা ও নৈতিক পাঠ দানের উদ্যোগ নেয়, তবে এই অন্ধকারের মেঘ কাটতে শুরু করবে। মন্দির কেবল প্রার্থনার জায়গা নয়, এটি মানবতা ও নৈতিকতার উৎস কেন্দ্র; হরিজন কলোনির মন্দিরগুলোতে অবিলম্বে ধর্মগুরু নিয়োগ নিশ্চিত করে এই অবহেলিত শিশুদের মাঝে আলোর দিশা ছড়িয়ে দেওয়া আজ সময়ের দাবি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


যেখানে মন্দির শুধুই উপাসনালয়, মানুষ গড়ার পাঠশালা নয়: হরিজন কলোনির করুণ বাস্তবতা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রায় প্রতিটি হরিজন কলোনিতে বাসিন্দাদের নিজস্ব অকৃত্রিম আবেগ ও নিষ্ঠায় গড়ে উঠেছে একটি করে কেন্দ্রীয় মন্দির। সকাল-সন্ধ্যা প্রদীপ প্রজ্বলন, ধূপের সুবাস আর নিয়মিত আরাধনার মধ্য দিয়ে এই মন্দিরগুলো হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তবে এই ধর্মীয় আবহের অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ও বেদনাদায়ক শূন্যতা। দেশের অধিকাংশ হরিজন কলোনির কেন্দ্রীয় মন্দিরে নেই কোনো স্থায়ী ধর্মগুরু বা পুরোহিত। ফলে সনাতন ধর্মের মূলধারা থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বেড়ে উঠছে তাদের কোমলমতি শিশুরা। শৈশব থেকেই তারা বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে, যা একটি সুস্থ ও আত্মমর্যাদাশীল সমাজ গঠনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।


​একটি শিশুর চরিত্র গঠন, আদর্শ জীবনচেতনা ও আত্মপরিচয় বিকাশে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু হরিজন কলোনিগুলোর现实 চিত্র অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কলোনিতে চকচকে মন্দির প্রাঙ্গণ থাকলেও সেখানে নিয়মিত কোনো গীতা পাঠ, ধর্মীয় নীতিশিক্ষা কিংবা সনাতন সংস্কৃতির সারমর্ম চর্চা করার সুযোগ নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা পূজা-পার্বণের বাহ্যিক ঢাক-ঢোল ও ধর্মীয় আচারগুলো দেখলেও সনাতন ধর্মের গূঢ় দর্শন, সত্য, সুন্দর ও মানবতার মূল বার্তা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।

​এই সংকট অনুসন্ধানে কলোনির বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতার শিকার। মূলত তীব্র অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই আজ এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দিনরাত পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা এসব পরিবারের পক্ষে নিজেদের সীমিত আয়ে স্থায়ীভাবে সম্মানজনক সম্মানি দিয়ে একজন পুরোহিত বা ধর্মগুরু রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, দেশের বড় বড় সনাতন ধর্মীয় সংগঠন বা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের তরফ থেকেও প্রান্তিক হরিজন কলোনির মন্দিরগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় নজর দেওয়া হয়নি। ফলে অবহেলা আর অযত্নে কলোনির এই পবিত্র স্থানগুলো কেবল নামমাত্র উপাসনালয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ গড়ার কোনো পাঠশালা নেই।

​মানবাধিকার গবেষকদের মতে, ধর্মীয় ও সুনির্দিষ্ট নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতিতে প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই শিশুরা সহজেই বিপথগামী হওয়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে। অথচ সঠিক ধারার ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ পেলে এসব শিশু নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারত এবং সব বিভেদ ভুলে আত্মমর্যাদা নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত। কলোনির সচেতন মহল ও অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টসহ দেশের শীর্ষ সনাতনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সংকট উত্তরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠনগুলোও যদি অন্তত সপ্তাহে একদিন এই শিশুদের মাঝে গীতা শিক্ষা ও নৈতিক পাঠ দানের উদ্যোগ নেয়, তবে এই অন্ধকারের মেঘ কাটতে শুরু করবে। মন্দির কেবল প্রার্থনার জায়গা নয়, এটি মানবতা ও নৈতিকতার উৎস কেন্দ্র; হরিজন কলোনির মন্দিরগুলোতে অবিলম্বে ধর্মগুরু নিয়োগ নিশ্চিত করে এই অবহেলিত শিশুদের মাঝে আলোর দিশা ছড়িয়ে দেওয়া আজ সময়ের দাবি।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
যেখানে মন্দির শুধুই উপাসনালয়, মানুষ গড়ার পাঠশালা নয়: হরিজন কলোনির করুণ বাস্তবতা
0:00 0:00
1.0x