নিখোঁজের খবর প্রকাশের পর নরসিংদীর রায়পুরার শ্যামল দাসের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ এলাকায় নদী থেকে তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ ভেসে ওঠে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানা যায়।
শ্যামল দাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের রহিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে রায়পুরা ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্ট থেকে পণ্য নিয়ে নৌপথে আলোকবালী, বাখরনগর ও মোড়াদনগর বাজারে সরবরাহের কাজ করতেন।
জানা যায় গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মনিপুরা ঘাট থেকে এক মাঝির ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পণ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুরের দিকে পণ্য সরবরাহ শেষে ফিরে আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তিনি ফিরে আসেননি। পরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই স্বজন ও পরিচিতরা তাঁর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই মাঝির ছেলের বক্তব্যে অসংগতি দেখা দিলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিবরণে দাবি করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শ্যামল দাসকে মেঘনা নদীর মাঝপথে অন্য কয়েকজনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা তদন্তের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া আরও দাবি করা হয়েছে, ডেলিভারির টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শ্যামল দাসকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনের বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
নিখোঁজের পর শ্যামল দাসের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের খবরে তাঁর পরিবার, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত