বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছে ভারত সরকার।
সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি, ধর্মীয় উপাসনালয় ও কর্মস্থলে হামলার যেসব খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
বৃহস্পতিবার ভারতের রাজ্যসভায় এ বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন তোলেন সিপিএমের সাংসদ জন ব্রিটাস।
তিনি জানতে চান, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় ভারত সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা অবগত।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবেদনগুলো ভারত সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
শুধু বসতবাড়ি নয়, ধর্মীয় উপাসনালয় ও কর্মস্থলে হামলার ঘটনাও নজরে রাখা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে কীর্তিবর্ধন সিং উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ আলোচনায় আসে।
একইভাবে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকেও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।
কীর্তিবর্ধন সিং বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষা করা বাংলাদেশের সরকারের মৌলিক দায়িত্ব।
সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া কিছু বক্তব্য নিয়েও রাজ্যসভায় প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্যান্য কারণে দায়ী করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।
তাঁর মতে, এতে চরমপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হয় এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং তাদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকার।
সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে একটি অস্বস্তিকর ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
এর প্রায় ১০ দিন পর সংখ্যালঘু বিষয়ক ব্যাখ্যা দিয়ে একটি বিবৃতি দেয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর :
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধ ছিল অসাম্প্রদায়িক ও সাধারণ অপরাধমূলক; এসব ঘটনার সঙ্গে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
পুলিশের নথিভুক্ত তথ্যের ভিত্তিতেই ওই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
মতামত