শাস্ত্রীয় এই ব্রত পালনের একটি নির্দিষ্ট ও পবিত্র বিধি রয়েছে। দশমীর দিন থেকেই ব্রতের প্রস্তুতি শুরু হয়, যেখানে সোনা, রূপা, তামা অথবা মাটির কলস জল ও আমপাতা দিয়ে সুগন্ধি চন্দনে সাজিয়ে তার ওপর শ্রীনারায়ণের স্বর্ণমূর্তি স্থাপন করতে হয়। একাদশীর দিন ভোরে স্নান সেরে যথাবিধি নারকেল ও গুবাক দিয়ে পূজা নিবেদন করার নিয়ম। সারা দিনব্যাপী গন্ধ, পুষ্প, তুলসী ও ধূপ-দীপ সহযোগে ভক্তিভরে শ্রীনারায়ণের আরাধনা এবং হরিকথা কীর্তনের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করতে হয়। এই ব্রতের অন্যতম বিশেষত্ব হলো রাত্রি জাগরণ করে অখণ্ড ঘি-প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত রাখা। অতঃপর দ্বাদশীর দিন সূর্যোদয়ের পর কোনো জলাশয়ের কাছে নিয়ম মেনে পূজা নিবেদন শেষে কলস বিসর্জন দিতে হয় এবং নারায়ণের মূর্তিটি কোনো বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে দান করতে হয়।

মহর্ষি বক্দালভ্যের উপদেশ অনুযায়ী এই ব্রত পালনের ফলেই শ্রীরামচন্দ্র সৈন্যসহ সমুদ্র জয় করেছিলেন এবং রাবণ বধের মাধ্যমে জগতে অক্ষয় কীর্তি স্থাপন করেছিলেন। শাস্ত্র মতে, যে ব্যক্তি এই পবিত্র ব্রত নিয়মনিষ্ঠার সাথে পালন করবেন, তিনি ইহজগতে সকল বাধা অতিক্রম করে জয়লাভ করবেন এবং পরজগতে লাভ করবেন অক্ষয় সুখ। এমনকি এই ব্রতকথা কেবল শ্রবণ ও কীর্তন করলেই বাজপেয় যজ্ঞের সমতুল্য পুণ্য ফল লাভ হয় বলে ভক্তসমাজে গভীর বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভক্তরা নিজেদের জীবনের সকল প্রতিকূলতা জয় করে বিজয় অর্জনের কামনায় এই মহাব্রত পালন করছে বিশ্ব সনাতনী সম্প্রদায়।
মতামত