হিন্দুস নিউজ

শিবের বরপুত্র থেকে মানবের ত্রাণকর্তা স্বামী প্রদীপানন্দ পুরী মহারাজ: এক অলৌকিক জন্ম ও উপাখ্যান


| প্রিন্ট সংস্করণ

শিবের বরপুত্র থেকে মানবের ত্রাণকর্তা স্বামী প্রদীপানন্দ পুরী মহারাজ: এক অলৌকিক জন্ম ও উপাখ্যান
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
রোগ, শোক আর জাগতিক দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শ্রীমৎ স্বামী প্রদীপানন্দ পুরী মহারাজ। তবে তাঁর এই আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে এক বিস্ময়কর ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল জীবন ইতিহাস। তাঁর বংশলতিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁর পিতামহ রাম কুমার দে সুদূর বার্মা থেকে এ দেশে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। রাম কুমারের মেজ পুত্র উপেন্দ্র দে এবং মাতা কিরণ বালা দে-র ঘর আলোকিত করেই জন্ম নেন আজকের এই প্রথিতযশা সন্ন্যাসী।


​স্বামী প্রদীপানন্দ পুরী মহারাজের জন্মের ইতিহাস বেশ অলৌকিক ও বেদনাদায়ক পটভূমিতে রচিত। একসময় তাঁর পিতা উপেন্দ্র দে অত্যন্ত অর্থবিত্তের অধিকারী থাকলেও পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন নিঃসন্তান ও শোকাতুর। তাঁর প্রথম আটটি সন্তানের প্রত্যেকেই জন্মের কিছুকাল পর অকালে প্রাণ হারান। সন্তানের শোকে দিশেহারা দম্পতি শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন তীর্থস্থানে ঘুরে বেড়ান এবং পরিশেষে স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ প্রতিষ্ঠিত ঋষিধাম আশ্রমে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সেখানে বিত্তহারা ও উদাসীন অবস্থায় কায়িক শ্রমের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করার সময় স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের অশেষ কৃপায় তাঁদের কোল আলো করে জন্ম নেন প্রদীপানন্দ।

লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, তাঁর জন্মের পূর্বে মাতা কিরণ বালা দে স্বয়ং শিব ঠাকুরের দর্শন পেয়েছিলেন। মহাদেবের বরপুত্র হিসেবে গণ্য করায় জন্মের পর থেকে আজ অবধি স্বামীজি তাঁর চুল বা দাড়ি কখনোই কর্তন করেননি।

​শিক্ষা জীবনের শুরুতেই কালীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তিনি স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের কাছে দীক্ষিত হন। আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা মেটাতে কৈশোরেই পিতা-মাতার স্নেহ ত্যাগ করে তিনি পাড়ি জমান পাকিস্তানের লাহোরে। সেখানে উর্দু ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জনের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান পরিভ্রমণ করেন। কেবল আধ্যাত্মিকতা নয়, দেশপ্রেমের পরীক্ষায়ও তিনি উত্তীর্ণ। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি দেশে ফিরে বীর বিক্রমে যুদ্ধে অংশ নেন এবং একাধিক পাকিস্তানি সেনাকে ধরাশায়ী করে দেশমাতৃকার সেবায় অনন্য ভূমিকা রাখেন।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

পরবর্তীতে বৈষ্ণব হরগোবিন্দ গোস্বামীর নিকট থেকে বৈষ্ণবীয় প্রথায় বীজ মন্ত্র লাভ করার পর, তিনি স্বপ্নযোগে তাঁর গুরু অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের আদেশ প্রাপ্ত হন এবং সন্ন্যাস ধর্ম ও গেরুয়া বস্ত্র গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে মাতৃবিয়োগের পর তিনি পালেগ্রামে ফিরে আসেন এবং মায়ের সমাধিতে শিব ও কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'আদিত্য আশ্রম' সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষই আশ্রয় পান। বিশেষ করে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের আশায় হাজারো ভক্তের ঢল নামে এই আশ্রমে। প্রতি বছর শিব চতুর্দশীতে আয়োজিত বিশাল নামযজ্ঞ ও মেলা এখন এই অঞ্চলের এক অন্যতম প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিবের বরপুত্র থেকে মানবের ত্রাণকর্তা স্বামী প্রদীপানন্দ পুরী মহারাজ: এক অলৌকিক জন্ম ও উপাখ্যান

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
রোগ, শোক আর জাগতিক দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শ্রীমৎ স্বামী প্রদীপানন্দ পুরী মহারাজ। তবে তাঁর এই আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে এক বিস্ময়কর ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল জীবন ইতিহাস। তাঁর বংশলতিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁর পিতামহ রাম কুমার দে সুদূর বার্মা থেকে এ দেশে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। রাম কুমারের মেজ পুত্র উপেন্দ্র দে এবং মাতা কিরণ বালা দে-র ঘর আলোকিত করেই জন্ম নেন আজকের এই প্রথিতযশা সন্ন্যাসী।


​স্বামী প্রদীপানন্দ পুরী মহারাজের জন্মের ইতিহাস বেশ অলৌকিক ও বেদনাদায়ক পটভূমিতে রচিত। একসময় তাঁর পিতা উপেন্দ্র দে অত্যন্ত অর্থবিত্তের অধিকারী থাকলেও পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন নিঃসন্তান ও শোকাতুর। তাঁর প্রথম আটটি সন্তানের প্রত্যেকেই জন্মের কিছুকাল পর অকালে প্রাণ হারান। সন্তানের শোকে দিশেহারা দম্পতি শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন তীর্থস্থানে ঘুরে বেড়ান এবং পরিশেষে স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ প্রতিষ্ঠিত ঋষিধাম আশ্রমে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সেখানে বিত্তহারা ও উদাসীন অবস্থায় কায়িক শ্রমের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করার সময় স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের অশেষ কৃপায় তাঁদের কোল আলো করে জন্ম নেন প্রদীপানন্দ।

লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, তাঁর জন্মের পূর্বে মাতা কিরণ বালা দে স্বয়ং শিব ঠাকুরের দর্শন পেয়েছিলেন। মহাদেবের বরপুত্র হিসেবে গণ্য করায় জন্মের পর থেকে আজ অবধি স্বামীজি তাঁর চুল বা দাড়ি কখনোই কর্তন করেননি।

​শিক্ষা জীবনের শুরুতেই কালীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তিনি স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের কাছে দীক্ষিত হন। আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা মেটাতে কৈশোরেই পিতা-মাতার স্নেহ ত্যাগ করে তিনি পাড়ি জমান পাকিস্তানের লাহোরে। সেখানে উর্দু ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জনের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান পরিভ্রমণ করেন। কেবল আধ্যাত্মিকতা নয়, দেশপ্রেমের পরীক্ষায়ও তিনি উত্তীর্ণ। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি দেশে ফিরে বীর বিক্রমে যুদ্ধে অংশ নেন এবং একাধিক পাকিস্তানি সেনাকে ধরাশায়ী করে দেশমাতৃকার সেবায় অনন্য ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীতে বৈষ্ণব হরগোবিন্দ গোস্বামীর নিকট থেকে বৈষ্ণবীয় প্রথায় বীজ মন্ত্র লাভ করার পর, তিনি স্বপ্নযোগে তাঁর গুরু অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের আদেশ প্রাপ্ত হন এবং সন্ন্যাস ধর্ম ও গেরুয়া বস্ত্র গ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে মাতৃবিয়োগের পর তিনি পালেগ্রামে ফিরে আসেন এবং মায়ের সমাধিতে শিব ও কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'আদিত্য আশ্রম' সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষই আশ্রয় পান। বিশেষ করে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের আশায় হাজারো ভক্তের ঢল নামে এই আশ্রমে। প্রতি বছর শিব চতুর্দশীতে আয়োজিত বিশাল নামযজ্ঞ ও মেলা এখন এই অঞ্চলের এক অন্যতম প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
শিবের বরপুত্র থেকে মানবের ত্রাণকর্তা স্বামী প্রদীপানন্দ পুরী মহারাজ: এক অলৌকিক জন্ম ও উপাখ্যান
0:00 0:00
1.0x