স্বল্প আয়ের পরিবারে বেড়ে ওঠা বৃষ্টির জীবন শুরু থেকেই ছিল সংগ্রামে ভরা। তাঁর বাবা একজন অস্থায়ী চা শ্রমিক এবং মা গৃহিণী। দৈনিক মাত্র ১২০ টাকার মজুরিতে সংসার চললেও পরিবারের অটুট সমর্থন এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে কখনো পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি। প্রাইভেট কোচিং ছাড়াই নিজ প্রচেষ্টায় সব পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বৃষ্টি জানান, সবসময়ই তিনি পড়াশোনায় কোনো ঘাটতি না রাখার চেষ্টা করেছেন। আর্থিক অসুবিধা থাকলেও সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এগিয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় আর্থিক সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও পরিবার ঋণ করে তাঁকে ভর্তি করায়। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও দৃঢ় মনোবল নিয়ে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি বৃষ্টির লক্ষ্য আরও বৃহৎ। তিনি ভবিষ্যতে চা শ্রমিক সম্প্রদায়ের শিক্ষাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতে চান। তাঁর বিশ্বাস, যথাযথ সুযোগ ও সহায়তা পেলে চা শ্রমিকদের সন্তানরাও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
নারীর অবস্থান প্রসঙ্গে বৃষ্টি বলেন, নারীরা আজ অনেক দূর এগিয়েছে, তবুও অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তিনি চান, সমাজে প্রতিটি নারী তার ন্যায্য মর্যাদা লাভ করুক।
বৃষ্টি বুনার্জীর এই পথচলা কেবল একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি চা বাগানের সংগ্রামী পরিবারগুলোর স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল
মতামত