পার্বতীপুর ডিপো সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল থেকেই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পাম্পিং শুরু করেছে ভারত। প্রায় ৬০ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ শেষে শুক্রবার এই জ্বালানি পার্বতীপুর ডিপোর সংরক্ষণাগারে জমা হবে। বর্তমানে ডিপোর মজুত পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে ধারণক্ষমতা ৫৭ লাখ লিটার হলেও মজুত আছে মাত্র ২২ লাখ ১৫ হাজার লিটারের মতো। এমনকি পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের মজুতও অত্যন্ত সীমিত, যা দিয়ে বড়জোর সাতদিন চলা সম্ভব। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের পাঠানো এই বিশাল জ্বালানি চালান বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলার সেচ কার্যক্রম ও যানবাহন চলাচলের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় ভারত অত্যন্ত সুলভে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে এই জ্বালানি সরবরাহ করে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ৩৫,৭১৮ টন এবং ২০২৪ সালে ২৮,২০৪ টন ডিজেল সরবরাহ করেছিল ভারত। এমনকি গত বছর (২০২৫ সালে) রেকর্ড ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ টন ডিজেল পাঠিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে ভারত।
বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) ইতোমধ্যেই আগামী চার মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে। ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া বাস্তবায়ন করা কার্যত অসম্ভব ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, যারা ভারতবিরোধী কথা বলছেন বা মনে ভারতবিদ্বেষ পুষছেন, তাদের বোঝা উচিত যে বিপদের দিনে ভারতের এই পাইপলাইনই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে রাখছে। ভারতবিদ্বেষ দিয়ে পেট ভরে না, কিন্তু ভারতের পাঠানো জ্বালানি দিয়ে ঠিকই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আলো জ্বলে এবং প্রান্তিক কৃষকের ফসলের ক্ষেত সজীব থাকে।
মতামত