বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতনের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিভিন্ন বাংলাদেশি হিন্দু সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী হিন্দু অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচি শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। আয়োজকদের ভাষায়, এটি ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিবাদ। জাতীয় সংগীত শেষে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
বিক্ষোভে যুক্তরাজ্যের প্রায় সব বাংলাদেশি হিন্দু সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গ্লোবাল বেঙ্গলি হিন্দু প্ল্যাটফর্ম (ইউকে শাখা), বিভিন্ন মন্দির কমিটি, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তাহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালানো হচ্ছে। ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, ধর্ষণ, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে তারা দাবি করেন। বিশেষ করে হিন্দু কন্যাদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ঘটনাকে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে সাম্প্রতিক সময়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার ও কণ্ঠরোধের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একজন ধর্মীয় সাধুকে গ্রেপ্তার করা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এটি সংখ্যালঘু নিপীড়নের আরেকটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। তারা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—
বাংলাদেশে হিন্দুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
হিন্দু কন্যাদের জোরপূর্বক ধর্মান্তর বন্ধ করা,
হিন্দু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার,
উগ্রবাদী ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান,
এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংখ্যালঘু নিপীড়নকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া।
একজন বক্তা বলেন, “আমাদের একমাত্র পরিচয়—আমরা হিন্দু। বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। সেখানে হিন্দুদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে। কিন্তু সেই অধিকার আজ বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে।” তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হলেও আয়োজকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবাদ, জনমত গঠন ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


মতামত