পলায়ন নাকি আত্মগোপন?
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার প্রবল জোয়ারে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শিরীন শারমিন চৌধুরীর অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। অনেকে ধারণা করেছিলেন তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জানা গেল, ধানমন্ডির সেই অট্টালিকা যা একসময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেখানেই তিনি লুকিয়ে ছিলেন। জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যখন রাজপথে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরছিল, তখন তার নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর ক্ষোভ রয়েছে।
বিতর্কিত সংসদ ও প্রশ্নবিদ্ধ দায়িত্বকাল
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে টানা এক দশকেরও বেশি সময় তিনি এই পদে আসীন ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির একতরফা ও বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনের পর তাকে পুনরায় স্পিকার নির্বাচিত করা হলে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন সময় হওয়া নির্যাতনের বিচার নিশ্চিতে তার আমলের সংসদ কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহিংসতায় উসকানি ও দায়বদ্ধতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে উত্তরা ও বনানী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
আদালতের পথে শিরীন
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরেই তাকে আদালতে তোলা হবে। বনানী বা উত্তরা থানার কোনো একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাপট আর আভিজাত্যের খোলস ভেঙে আজ তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে—এটি যেন অমোঘ নিয়তিরই লিখন। পাপে যে পতন অনিবার্য, সাবেক এই স্পিকারের গ্রেপ্তার সেই সত্যকেই আবার সামনে নিয়ে এলো।
বিকেলে ডিবি কার্যালয় থেকে বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনীত সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো জাতির সামনে পরিষ্কার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত