চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ব্রত ‘বরুথিনী একাদশী’।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই একাদশী ব্রত পালন করলে জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট দূর হয় এবং ভক্ত অর্জন করেন অশেষ পুণ্যফল। শাস্ত্রে এই একাদশীর মাহাত্ম্য অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বর্ণিত হয়েছে।
পুরাণ মতে, এই একাদশী ব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ অতীত জীবনের পাপ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। বলা হয়, বরুথিনী একাদশীর পুণ্যফল অশ্বমেধ যজ্ঞের সমতুল্য। বিশেষ করে যারা জীবনে নানা বাধা, আর্থিক সংকট কিংবা মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই ব্রত অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, এই একাদশী ব্রত পালন করলে সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়, অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা মেলে এবং জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভবিষ্যোত্তর পুরাণে বর্ণিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও যুধিষ্ঠিরের কথোপকথন অনুযায়ী, এই একাদশী ব্রতের মাহাত্ম্য অসীম। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে, বরুথিনী একাদশী ব্রত পালনের পুণ্যফল কুরুক্ষেত্রে সূর্যগ্রহণের সময় স্বর্ণদানের ফলের চেয়েও বেশি। এই ব্রতের প্রভাবে মানুষ কেবল আজীবনের পাপ থেকেই মুক্ত হয় না, বরং দুর্ভাগ্যের অবসান ঘটিয়ে জীবনে সুখ ও পরম সৌভাগ্য বয়ে আনে। এমনকি প্রাচীনকালে মান্ধাতা এবং ধুন্ধুমার নামক রাজারাও এই পবিত্র ব্রত পালন করে স্বর্গলোক প্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এ বছর বরুথিনী একাদশী তিথি শুরু হয়েছে ১৩ই এপ্রিল, সোমবার ভোর ০১টা ১৬ মিনিটে এবং এই তিথির সমাপ্তি ঘটবে ১৪ই এপ্রিল, মঙ্গলবার রাত ০১টা ০৮ মিনিটে। উদয়া তিথি অনুসারে প্রধান উপবাসটি ১৩ই এপ্রিল বা সোমবারই পালিত হচ্ছে। উপবাসের পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল, মঙ্গলবার ব্রত ভঙ্গের বা পারণের নির্ধারিত সময় শুরু হবে সকাল ০৬টা ৫৪ মিনিট থেকে এবং তা চলবে সকাল ০৮টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে। ধর্মপ্রাণ মানুষেরা এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে উপবাস সম্পন্ন করবেন।
শাস্ত্রীয় বিধিমতে, এই ব্রতের নিয়ম অত্যন্ত কঠোর ও সংযমপূর্ণ। একাদশীর আগের দিন অর্থাৎ দশমী তিথি থেকেই ব্রতীদের সংযম শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পর কোনো খাবার গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একাদশীর মূল দিনে সকালে স্নান শেষে শুদ্ধ বস্ত্রে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর বরাহ অবতার কিংবা শ্রীকৃষ্ণের চরণে তুলসী পাতা, ফল ও ফুল অর্পণ করে পূজা অর্চনা করা হয়। এই দিনটিতে কোনো ধরনের চাল, গম, ডাল, সরিষা বা শস্যদানা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উপবাসকারী ভক্তগণ সারাদিন জল ও ফলমূল খেয়ে অথবা সম্পূর্ণ নির্জলা থেকে পরম কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করেন এবং শ্রীহরির নাম জপ ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠে নিমগ্ন থাকেন।
মতামত