উল্লেখ্য, নেপালের রাজনীতিতে বর্তমানে এক উত্তাল সময় পার করছে।
দেশটিতে চলমান 'জেন জেড' আন্দোলন সুশাসন ও জবাবদিহিতার যে জোরালো দাবি তুলেছে, গুরুঙের পদত্যাগে সেই জনমতেরই প্রতিফলন ঘটেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন যে, জনবিশ্বাসের চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু হতে পারে না এবং নেতৃত্বের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত।
যদিও গত সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে 'গুজব' বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং আবেগের বশবর্তী না হয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবুও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।
বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি মন্ত্রিসভা থেকে দ্বিতীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের প্রস্থান। এর আগে গত ৯ এপ্রিল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সুপারিশে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সুদান গুরুঙের পদত্যাগ হিমালয়ের এই দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নৈতিকতার এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিল। সরকারের এই টালমাটাল অবস্থায় জনমনে সুশাসনের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে।
মতামত