বৈদিক যুগ থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ‘স্বর্ণভস্ম’ ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও জটিল ব্যাধি নিরাময়ের যে চর্চা ছিল, আধুনিক বিজ্ঞান যেন আজ সেই প্রাচীন প্রজ্ঞাকেই ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় নতুনভাবে প্রমাণ করল। এই আবিষ্কারের ফলে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি দমনে মানবতার এক নতুন জয়যাত্রা শুরু হলো, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সুস্বাস্থ্যের অধিকার ও জীবন বাঁচানোর লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ক্যানসার চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমান ধারায় একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব আনতে চলেছে। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যেখানে ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে ক্যানসার আক্রান্ত টিউমারের চারপাশের তাপমাত্রা সাধারণত কিছুটা বেশি থাকে, যা এই তরল সোনার রূপান্তরের তাপমাত্রা অর্থাৎ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রচলিত কেমোথেরাপি বা ক্যানসার চিকিৎসার প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো, তা ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার পাশাপাশি শরীরের সুস্থ ও ভালো কোষগুলোকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কিন্তু এই লিকুইড গোল্ড প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি স্মার্ট ড্রাগ বা ওষুধ সুস্থ কোষে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকবে এবং রক্তে ভাসতে ভাসতে যখনই ক্যানসার আক্রান্ত টিউমারের তাপীয় সংকেত পাবে, তখনই সেখানে নেটওয়ার্ক তৈরি করে সুনির্দিষ্টভাবে শুধু ক্যানসার কোষটির ওপরেই ওষুধ প্রয়োগ করবে। মানবজাতির সুরক্ষায় বিজ্ঞানের এই অনন্য আশীর্বাদ ক্যানসার রোগীদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত