লাল ইট, চুন-সুরকি ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই কালীবাড়ি দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মন্দিরের সুউচ্চ খিলান, পুরোনো কারুকার্য এবং চারপাশের ধ্বংসাবশেষ যেন অতীত ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও সময়ের গল্প বলে চলেছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, মন্দিরটি জমিদার আমল কিংবা তারও পূর্ববর্তী কোনো শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বিশাল বটগাছ ও শান্ত পরিবেশ, যা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মনে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। প্রতি বছর কালীপূজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এখানে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে। পূজা উপলক্ষে আয়োজিত মেলা এলাকাবাসীর কাছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মতে, এই কালীবাড়ি কেবল পূজার স্থান নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শত বছরের সংস্কৃতির ধারক। নানা প্রতিকূলতা ও অবহেলার মধ্যেও মন্দিরটি এখনও এলাকার ধর্মীয় চেতনা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে রেখেছে।
তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মন্দিরের অনেক অংশ বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কাছে এই প্রাচীন মন্দিরটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের আশা, সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে রামনাথপুর কালীবাড়ি ভবিষ্যতে রংপুর অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
মতামত