আগামী সোমবার ভারতের রাস্তায় নেমে সরাসরি দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক ঐতিহাসিক গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এই তরুণ ভারতের যুবকদের মানবাধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যতের পক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফাইনাল পরীক্ষার মূল্যায়নে নজিরবিহীন ভুলের কারণে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যখন সম্পূর্ণ অন্ধকারের মুখে, ঠিক তখনই এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছে এই যুব বাহিনী। নিজের ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে অভিজিৎ দিপকে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি সরাসরি ভারতে ফিরছেন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে। দিল্লির বুকে একটি শান্তিপূর্ণ গণবিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণ সমাজকে আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, সরকারের কাছ থেকে দেশের নাগরিকদের মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা চাওয়া একটি সাংবিধানিক অধিকার। ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে ৮ লক্ষ শিক্ষার্থী একটি গণস্বাক্ষর পিটিশনে সই করেছেন, যদিও এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বা সরকারি মুখপাত্রের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
আমেরিকায় দুই বছর ধরে থাকা অভিজিৎ দিপকে স্বীকার করেছেন, মানবাধিকার ও যুবকদের পক্ষে কথা বলতে ভারতে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তাঁর পরিবার ও বন্ধুবান্ধবরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তবে সমস্ত ভয়কে জয় করে সাহসের সাথে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, দেশের তরুণ সমাজ আর কতদিন এভাবে ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকবে। ইতিমধ্যেই প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে সিজেপির ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টটি ভারতে ব্লক করা হয়েছে এবং তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজটিও হ্যাকারদের কবল থেকে উদ্ধার করতে হয়েছে। এদিকে এই তরুণদের উত্থানে রীতিমতো কেঁপে উঠে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সিজেপির বিরুদ্ধে চিরাচরিত ‘দেশবিরোধী’ তকমা সেঁটে দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, এই দল নাকি চিরশত্রু পাকিস্তান এবং ‘ভারত-বিরোধী গ্যাং’ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার কিনছে, যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিষয়ে এখনো সম্পূর্ণ নীরব রয়েছেন। যুবসমাজের এই ক্ষোভের আগুন কতটা তীব্র, তা বোঝা যায় সরকারের একটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তেই।
গত মাসে প্রশ্ন ফাঁসের কারণে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হওয়ায় দেশজুড়ে যে তীব্র ছাত্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে এবার পুনর্নির্বাচনের প্রশ্নপত্র বহনের জন্য ডাক বিভাগের ওপর ভরসা না রেখে সরাসরি ভারতীয় বিমানবাহিনী মোতায়েনের নজিরবিহীন পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার। এছাড়া সিজেপি দেশের তীব্র বেকারত্বকে সামনে এনেছে, যেখানে সরকারি তথ্যই বলছে ১৫ থেকে ২৯ বছর বছয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার গত বছর ছিল ৯.৯%, যা দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হারের চেয়ে তিন গুণ বেশি। সনাতনী যুবসমাজসহ ভারতের এই বিশাল বঞ্চিত ‘তেলাপোকা’ বাহিনী এখন দিল্লির রাজপথে কী ধরণের রাজনৈতিক সুনামি তৈরি করে এবং মানবাধিকারের এই লড়াইয়ে কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মতামত