হিন্দুস নিউজ

মহাভারতের আবেগ ও দেবী দুর্গার স্মৃতিবিজড়িত এক শিলার অনন্য কীর্তি 'দ্রৌপদী রথ'


| প্রিন্ট সংস্করণ

মহাভারতের আবেগ ও দেবী দুর্গার স্মৃতিবিজড়িত এক শিলার অনন্য কীর্তি 'দ্রৌপদী রথ'
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
দূর থেকে দেখলে যে কারোরই মনে হতে পারে, এটি বিশাল কোনো পাথরের তৈরি এক প্রাচীন দেবালয়। তবে ভারতের তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমের 'দ্রৌপদী রথ' কেবল কোনো সাধারণ উপাসনালয় নয়, বরং সনাতন প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য ও অসাধারণ নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থাপনাটির সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো, পুরো কাঠামোটি আলাদা আলাদা কোনো পাথর জোড়া দিয়ে নয়, বরং একটিমাত্র দীর্ঘ গ্রানাইট শিলা কেটে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের করমণ্ডল উপকূলে অবস্থিত মহাবলীপুরম, যা একসময় প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যবাহী ‘মামল্লপুরম’ নামে পরিচিত ছিল, এখানকার বিখ্যাত পঞ্চ রথ স্থাপত্যগুচ্ছের অন্যতম প্রধান অংশ হলো এই দ্রৌপদী রথ।


​ঐতিহাসিক তথ্য ও সনাতন সংস্কৃতির প্রাচীন দলিল অনুযায়ী, সপ্তম শতাব্দীর শেষ দিকে পল্লব রাজবংশের গৌরবময় সময়ে এই কালজয়ী কীর্তি নির্মাণ করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এর নির্মাণকাল যুক্ত করা হয় পল্লব রাজবংশের মহান রাজা প্রথম মহেন্দ্রবর্মণ এবং তাঁর যোগ্য পুত্র প্রথম নরসিংহবর্মণের গৌরবোজ্জ্বল শাসনামলের সঙ্গে। পরাক্রমশালী নরসিংহবর্মণ ‘মামল্ল’ বা মহান যোদ্ধা নামেও পরিচিত ছিলেন, যাঁর হাত ধরে প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই স্থাপনাটির আকৃতি অনেকটা রথ বা যুদ্ধযানের মতো হওয়ায় এর নামের সঙ্গে ‘রথ’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে। মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবের মহিয়সী স্ত্রী দ্রৌপদীর নামে এটি লোকসমাজে পরিচিত হলেও, ইতিহাসবিদদের মতে এই নামকরণের পেছনে সরাসরি কোনো সমসাময়িক ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তবে সনাতন সংস্কৃতির মহাকাব্যিক আবেগের সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

​বহু গবেষক ও দর্শনার্থী একে মন্দির বলে উল্লেখ করলেও, এটি কখনো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত মন্দির হিসেবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়নি। ধারণা করা হয়, রাজা প্রথম নরসিংহবর্মণের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে এই অসাধারণ শৈল্পিক যজ্ঞের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে বাহ্যিক নির্মাণ অসম্পূর্ণ থাকলেও, এই পবিত্র স্থাপনাটি সনাতন ধর্মের মহাশক্তি দেবী দুর্গাকে উৎসর্গ করা হয়েছিল বলে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, যা প্রাচীন ভারতের শাক্ত ঐতিহ্যের এক মহান স্মারক। বর্তমান সময়ে এই অনন্য দ্রৌপদী রথ ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (ASI) অত্যন্ত নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রাচীন সনাতন সভ্যতার এই গৌরবময় কীর্তি এবং মহাবলীপুরমের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অনন্য গুরুত্ব বিবেচনা করে, ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো (UNESCO) একে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে এক অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মহাভারতের আবেগ ও দেবী দুর্গার স্মৃতিবিজড়িত এক শিলার অনন্য কীর্তি 'দ্রৌপদী রথ'

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image
দূর থেকে দেখলে যে কারোরই মনে হতে পারে, এটি বিশাল কোনো পাথরের তৈরি এক প্রাচীন দেবালয়। তবে ভারতের তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমের 'দ্রৌপদী রথ' কেবল কোনো সাধারণ উপাসনালয় নয়, বরং সনাতন প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য ও অসাধারণ নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থাপনাটির সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো, পুরো কাঠামোটি আলাদা আলাদা কোনো পাথর জোড়া দিয়ে নয়, বরং একটিমাত্র দীর্ঘ গ্রানাইট শিলা কেটে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের করমণ্ডল উপকূলে অবস্থিত মহাবলীপুরম, যা একসময় প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যবাহী ‘মামল্লপুরম’ নামে পরিচিত ছিল, এখানকার বিখ্যাত পঞ্চ রথ স্থাপত্যগুচ্ছের অন্যতম প্রধান অংশ হলো এই দ্রৌপদী রথ।


​ঐতিহাসিক তথ্য ও সনাতন সংস্কৃতির প্রাচীন দলিল অনুযায়ী, সপ্তম শতাব্দীর শেষ দিকে পল্লব রাজবংশের গৌরবময় সময়ে এই কালজয়ী কীর্তি নির্মাণ করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এর নির্মাণকাল যুক্ত করা হয় পল্লব রাজবংশের মহান রাজা প্রথম মহেন্দ্রবর্মণ এবং তাঁর যোগ্য পুত্র প্রথম নরসিংহবর্মণের গৌরবোজ্জ্বল শাসনামলের সঙ্গে। পরাক্রমশালী নরসিংহবর্মণ ‘মামল্ল’ বা মহান যোদ্ধা নামেও পরিচিত ছিলেন, যাঁর হাত ধরে প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই স্থাপনাটির আকৃতি অনেকটা রথ বা যুদ্ধযানের মতো হওয়ায় এর নামের সঙ্গে ‘রথ’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে। মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবের মহিয়সী স্ত্রী দ্রৌপদীর নামে এটি লোকসমাজে পরিচিত হলেও, ইতিহাসবিদদের মতে এই নামকরণের পেছনে সরাসরি কোনো সমসাময়িক ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তবে সনাতন সংস্কৃতির মহাকাব্যিক আবেগের সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

​বহু গবেষক ও দর্শনার্থী একে মন্দির বলে উল্লেখ করলেও, এটি কখনো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত মন্দির হিসেবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয়নি। ধারণা করা হয়, রাজা প্রথম নরসিংহবর্মণের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে এই অসাধারণ শৈল্পিক যজ্ঞের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে বাহ্যিক নির্মাণ অসম্পূর্ণ থাকলেও, এই পবিত্র স্থাপনাটি সনাতন ধর্মের মহাশক্তি দেবী দুর্গাকে উৎসর্গ করা হয়েছিল বলে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, যা প্রাচীন ভারতের শাক্ত ঐতিহ্যের এক মহান স্মারক। বর্তমান সময়ে এই অনন্য দ্রৌপদী রথ ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (ASI) অত্যন্ত নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রাচীন সনাতন সভ্যতার এই গৌরবময় কীর্তি এবং মহাবলীপুরমের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অনন্য গুরুত্ব বিবেচনা করে, ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো (UNESCO) একে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে এক অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
মহাভারতের আবেগ ও দেবী দুর্গার স্মৃতিবিজড়িত এক শিলার অনন্য কীর্তি 'দ্রৌপদী রথ'
0:00 0:00
1.0x