তবে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথ সহজ ছিল না। ইউরোপীয় জার্নালে তাঁর গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি সরাসরি তৎকালীন সময়ের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের শরণাপন্ন হন। আইনস্টাইন তাৎক্ষণিকভাবে বসুর গবেষণার গভীরতা ও বিশ্বজনীন গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি নিজ দায়িত্বে গবেষণাপত্রটি জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন এবং বসুর গাণিতিক পদ্ধতিকে ভরযুক্ত কণার ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করেন। এভাবে যৌথ ভাবনার আলোয় জন্ম নেয় বিজ্ঞানের ইতিহাসে অমর 'Bose–Einstein statistics'।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে অতি-নিম্ন তাপমাত্রায় পদার্থের এক বিশেষ অবস্থার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, যা আজ 'Bose–Einstein condensate' নামে পরিচিত। সত্যেন বসুর এই অনন্য অবদানের প্রতি চিরস্থায়ী সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞানের জগতে Bose–Einstein statistics মেনে চলা সমস্ত কণাশ্রেণির নামকরণ করা হয় 'বোসন' (Boson)। আজ মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন বুঝতে ব্যবহৃত ফোটন, গ্লুয়ন কিংবা বিখ্যাত হিগস বোসন কণাগুলো বাঙালির মেধা ও সত্যেন বসুর নামেরই জয়গান গায়।
যদিও নোবেল কমিটি এই মহান বিজ্ঞানীকে তাঁদের আনুষ্ঠানিক পদকে ভূষিত করেনি, কিন্তু বিশ্ববিজ্ঞান তাঁকে দিয়েছে নোবেলের চেয়েও স্থায়ী ও অমর স্বীকৃতি। মৌলিক কণার বুনিয়াদে খোদাই হয়ে গেছে এই বাঙালি মনীষীর নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে বসে একজন বাঙালির বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্য সনাতনী মেধা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অসামান্য অমলিন অহংকার।
মতামত