হিন্দুস নিউজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনের দরবার: সত্যেন বসুর ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে


| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনের দরবার: সত্যেন বসুর ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষী ইতিহাসে জড়িয়ে আছে এমন কিছু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববিজ্ঞানের গতিপথ বদলে দেওয়ার মহান ইতিহাস। এর মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত, নিবিড় পরিবেশেই তিনি সূচনা করেছিলেন এক কালজয়ী বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের, যা পরবর্তীকালে আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।


​১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নেই সত্যেন্দ্রনাথ বসু পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে এই নতুন বিদ্যাপীঠে এসে তিনি নিবিড় গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯২৪ সালে ঢাকায় অবস্থানকালেই তিনি আলো ও আলোককণার সূক্ষ্ম আচরণ নিয়ে তাঁর বিখ্যাত গবেষণাপত্র 'Planck’s Law and the Hypothesis of Light Quanta' রচনা করেন। আলোকের ফোটন কণার আচরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এক অভিনব পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির প্রবর্তন করেন, যেখানে কণাগুলোকে আলাদাভাবে না দেখে অভিন্ন সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বসুর এই বৈপ্লবিক চিন্তা তখনকার বৈজ্ঞানিক মহলকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।

​তবে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথ সহজ ছিল না। ইউরোপীয় জার্নালে তাঁর গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি সরাসরি তৎকালীন সময়ের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের শরণাপন্ন হন। আইনস্টাইন তাৎক্ষণিকভাবে বসুর গবেষণার গভীরতা ও বিশ্বজনীন গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি নিজ দায়িত্বে গবেষণাপত্রটি জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন এবং বসুর গাণিতিক পদ্ধতিকে ভরযুক্ত কণার ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করেন। এভাবে যৌথ ভাবনার আলোয় জন্ম নেয় বিজ্ঞানের ইতিহাসে অমর 'Bose–Einstein statistics'।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে অতি-নিম্ন তাপমাত্রায় পদার্থের এক বিশেষ অবস্থার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, যা আজ 'Bose–Einstein condensate' নামে পরিচিত। সত্যেন বসুর এই অনন্য অবদানের প্রতি চিরস্থায়ী সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞানের জগতে Bose–Einstein statistics মেনে চলা সমস্ত কণাশ্রেণির নামকরণ করা হয় 'বোসন' (Boson)। আজ মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন বুঝতে ব্যবহৃত ফোটন, গ্লুয়ন কিংবা বিখ্যাত হিগস বোসন কণাগুলো বাঙালির মেধা ও সত্যেন বসুর নামেরই জয়গান গায়।

​যদিও নোবেল কমিটি এই মহান বিজ্ঞানীকে তাঁদের আনুষ্ঠানিক পদকে ভূষিত করেনি, কিন্তু বিশ্ববিজ্ঞান তাঁকে দিয়েছে নোবেলের চেয়েও স্থায়ী ও অমর স্বীকৃতি। মৌলিক কণার বুনিয়াদে খোদাই হয়ে গেছে এই বাঙালি মনীষীর নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে বসে একজন বাঙালির বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্য সনাতনী মেধা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অসামান্য অমলিন অহংকার।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনের দরবার: সত্যেন বসুর ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষী ইতিহাসে জড়িয়ে আছে এমন কিছু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববিজ্ঞানের গতিপথ বদলে দেওয়ার মহান ইতিহাস। এর মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত, নিবিড় পরিবেশেই তিনি সূচনা করেছিলেন এক কালজয়ী বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের, যা পরবর্তীকালে আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।


​১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নেই সত্যেন্দ্রনাথ বসু পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে এই নতুন বিদ্যাপীঠে এসে তিনি নিবিড় গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯২৪ সালে ঢাকায় অবস্থানকালেই তিনি আলো ও আলোককণার সূক্ষ্ম আচরণ নিয়ে তাঁর বিখ্যাত গবেষণাপত্র 'Planck’s Law and the Hypothesis of Light Quanta' রচনা করেন। আলোকের ফোটন কণার আচরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এক অভিনব পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির প্রবর্তন করেন, যেখানে কণাগুলোকে আলাদাভাবে না দেখে অভিন্ন সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বসুর এই বৈপ্লবিক চিন্তা তখনকার বৈজ্ঞানিক মহলকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।

​তবে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথ সহজ ছিল না। ইউরোপীয় জার্নালে তাঁর গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি সরাসরি তৎকালীন সময়ের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের শরণাপন্ন হন। আইনস্টাইন তাৎক্ষণিকভাবে বসুর গবেষণার গভীরতা ও বিশ্বজনীন গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি নিজ দায়িত্বে গবেষণাপত্রটি জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন এবং বসুর গাণিতিক পদ্ধতিকে ভরযুক্ত কণার ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করেন। এভাবে যৌথ ভাবনার আলোয় জন্ম নেয় বিজ্ঞানের ইতিহাসে অমর 'Bose–Einstein statistics'।

​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে অতি-নিম্ন তাপমাত্রায় পদার্থের এক বিশেষ অবস্থার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, যা আজ 'Bose–Einstein condensate' নামে পরিচিত। সত্যেন বসুর এই অনন্য অবদানের প্রতি চিরস্থায়ী সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞানের জগতে Bose–Einstein statistics মেনে চলা সমস্ত কণাশ্রেণির নামকরণ করা হয় 'বোসন' (Boson)। আজ মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন বুঝতে ব্যবহৃত ফোটন, গ্লুয়ন কিংবা বিখ্যাত হিগস বোসন কণাগুলো বাঙালির মেধা ও সত্যেন বসুর নামেরই জয়গান গায়।

​যদিও নোবেল কমিটি এই মহান বিজ্ঞানীকে তাঁদের আনুষ্ঠানিক পদকে ভূষিত করেনি, কিন্তু বিশ্ববিজ্ঞান তাঁকে দিয়েছে নোবেলের চেয়েও স্থায়ী ও অমর স্বীকৃতি। মৌলিক কণার বুনিয়াদে খোদাই হয়ে গেছে এই বাঙালি মনীষীর নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে বসে একজন বাঙালির বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্য সনাতনী মেধা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অসামান্য অমলিন অহংকার।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনের দরবার: সত্যেন বসুর ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে
0:00 0:00
1.0x