হিন্দুস নিউজ

পাহাড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নামে চরম অবহেলা: বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে এবারও নেই কোনো সনাতনী প্রতিনিধি


| প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নামে চরম অবহেলা: বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে এবারও নেই কোনো সনাতনী  প্রতিনিধি
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের লীলাভূমি পার্বত্য জেলা বান্দরবানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পাহাড়ি-বাঙালি নানা জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের বসবাস। তবে জেলাটির প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক নীতি-নির্ধারণী মূল কেন্দ্র ‘বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ’-এ বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে স্থানীয় সনাতনী বা হিন্দু সম্প্রদায়।


​সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মিজ মাম্যাচিং-কে চেয়ারম্যান করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যরা হলেন— জনাব চনুসং, জনাব মং কানু মারমা, জনাব লুসাই মং, জনাব মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা, জনাব দনওয়াই ম্রো, জনাব অগাস্টিন ত্রিপুরা, জনাব অংজাই উইচাক, জনাব রিয়াল দাও বম, জনাব আবদুল মাবুদ, জনাব মশিউর রহমান, জনাব মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, জনাব ক্যাউপু খিয়াং, মিজ উম্যাসিং মারমা এবং মিজ কাজী নিরাতাজ বেগম। তবে ১৫ সদস্যের এই তালিকায় স্থান পাননি সনাতন ধর্মের একজন প্রতিনিধিও।

​শুধু তা-ই নয়, বান্দরবানের ভূ-রাজনৈতিক ও জনসংখ্যার বিচারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃহত্তর উপজেলা তথা সাবেক মহকুমা লামা থেকেও রাখা হয়নি কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি। সরকারের এই একপেশে ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে জেলাজুড়ে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও গভীর অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

​বান্দরবানের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করে আসছেন। স্থানীয় বাণিজ্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও সার্বিক অর্থনীতিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ পার্বত্য জেলা পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সংস্থায় সনাতনীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকা তাদের নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য অংশীদারিত্বকে সরাসরি অস্বীকার করার সামিল বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। নীতি-নির্ধারণী জায়গায় নিজেদের প্রতিনিধি না থাকায় সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়ন, মন্দির সংস্কার এবং সামগ্রিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা আদায়ে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

​একইভাবে বান্দরবানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা লামা উপজেলাকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিনিধিত্বহীন রাখা অত্যন্ত বিস্ময়কর ও দুঃখজনক। স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দের মতে, পার্বত্য জেলা পরিষদের পুনর্গঠনে অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় না রেখে নির্দিষ্ট একটি অংশকে বঞ্চিত করার এই প্রবণতা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও মানবাধিকারের চেতনার পরিপন্থী। বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি জেলায় সকল সম্প্রদায়ের সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। অবিলম্বে সরকারের এই প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যোগ্য প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি এবং লামা উপজেলার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ সনাতনী সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাহাড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নামে চরম অবহেলা: বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে এবারও নেই কোনো সনাতনী প্রতিনিধি

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের লীলাভূমি পার্বত্য জেলা বান্দরবানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পাহাড়ি-বাঙালি নানা জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের বসবাস। তবে জেলাটির প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক নীতি-নির্ধারণী মূল কেন্দ্র ‘বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ’-এ বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে স্থানীয় সনাতনী বা হিন্দু সম্প্রদায়।


​সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মিজ মাম্যাচিং-কে চেয়ারম্যান করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যরা হলেন— জনাব চনুসং, জনাব মং কানু মারমা, জনাব লুসাই মং, জনাব মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা, জনাব দনওয়াই ম্রো, জনাব অগাস্টিন ত্রিপুরা, জনাব অংজাই উইচাক, জনাব রিয়াল দাও বম, জনাব আবদুল মাবুদ, জনাব মশিউর রহমান, জনাব মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, জনাব ক্যাউপু খিয়াং, মিজ উম্যাসিং মারমা এবং মিজ কাজী নিরাতাজ বেগম। তবে ১৫ সদস্যের এই তালিকায় স্থান পাননি সনাতন ধর্মের একজন প্রতিনিধিও।

​শুধু তা-ই নয়, বান্দরবানের ভূ-রাজনৈতিক ও জনসংখ্যার বিচারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃহত্তর উপজেলা তথা সাবেক মহকুমা লামা থেকেও রাখা হয়নি কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি। সরকারের এই একপেশে ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে জেলাজুড়ে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও গভীর অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

​বান্দরবানের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করে আসছেন। স্থানীয় বাণিজ্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও সার্বিক অর্থনীতিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ পার্বত্য জেলা পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সংস্থায় সনাতনীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকা তাদের নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য অংশীদারিত্বকে সরাসরি অস্বীকার করার সামিল বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। নীতি-নির্ধারণী জায়গায় নিজেদের প্রতিনিধি না থাকায় সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়ন, মন্দির সংস্কার এবং সামগ্রিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা আদায়ে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​একইভাবে বান্দরবানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা লামা উপজেলাকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিনিধিত্বহীন রাখা অত্যন্ত বিস্ময়কর ও দুঃখজনক। স্থানীয় সনাতনী নেতৃবৃন্দের মতে, পার্বত্য জেলা পরিষদের পুনর্গঠনে অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় না রেখে নির্দিষ্ট একটি অংশকে বঞ্চিত করার এই প্রবণতা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও মানবাধিকারের চেতনার পরিপন্থী। বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি জেলায় সকল সম্প্রদায়ের সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। অবিলম্বে সরকারের এই প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে যোগ্য প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি এবং লামা উপজেলার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ সনাতনী সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
পাহাড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নামে চরম অবহেলা: বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে এবারও নেই কোনো সনাতনী প্রতিনিধি
0:00 0:00
1.0x