শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বারতায় মুখরিত ময়মনসিংহের ঐতিহ্যের ধারক দুর্গাবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ। ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শুক্রবার দুপুরে দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ছয় শতাধিক শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মন্দির চত্বর এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ, লোকজ সংস্কৃতি এবং শারদীয় আবহকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে শিশুদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
রঙ-তুলির ছোঁয়ায় ক্যানভাসে জীবন্ত হয়ে ওঠে দশভুজা দেবী দুর্গার প্রতিমূর্তি, শরতের শুভ্র কাশফুল, নীল আকাশ আর গ্রামবাংলার চিরন্তন রূপ। খুদে শিল্পীরা তাদের কল্পনা ও সৃজনশীলতা দিয়ে হিন্দু ঐতিহ্য, সনাতন সংস্কৃতি এবং বাঙালি জাতির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নিপুণভাবে তুলে ধরে। একদিকে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে শিশুদের চিত্রাঙ্কন—দুইয়ে মিলে দুর্গাবাড়ি প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আনন্দ ও সম্প্রীতির এক মহামিলনমেলা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের সার্বিক সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান করেন এবং সুন্দর এ আয়োজন উপভোগ করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতন সংস্কৃতির বিকাশ ও শিশু মননে ধর্মীয় সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর শাহা বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন ছোটদের মননে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ছয় শতাধিক প্রতিযোগী শিশুদের প্রত্যেকে যেন উৎসাহিত বোধ করে, সেজন্য সান্ত্বনা পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। একইসঙ্গে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট চারটি বিভাগে বিভক্ত এই প্রতিযোগিতার ৪৮ জন সেরা খুদে শিল্পীকে বিকেলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে উপস্থিত সনাতনী অভিভাবকরা জানান, বর্তমান সময়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সনাতন ধর্মীয় আচার ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চায় শিশুদের যুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনায় সমৃদ্ধ করবে।
মতামত