অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর, ধর্মীয় আবহাওয়া ও অত্যন্ত শ্রদ্ধাঘন পরিবেশে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)-র দশম মহালয়া উদ্যাপিত হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের বিক্রফটে অবস্থিত রোজলিয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালির মহাসমাগম ঘটে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বারতাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাঙালিদের আত্মিক টান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা এবং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি মহালয়ার ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা করেন এবং ২০১৬ সালে সিডনির কোগারাহ স্কুল অব আর্টসে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া বিপিএ-র মহালয়া আয়োজনের এক দশকের পথচলার স্মৃতিতর্পণ করেন। দীর্ঘ এই সময়ে সংগঠনটির নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াসে এই উদ্যোগ প্রবাসের মাটিতে অন্যতম প্রধান শারদীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
সুমিতা দে ও অনুপম গোস্বামীর দক্ষ পরিচালনা ও দিকনির্দেশনায় চণ্ডীপাঠ, আগমনী গান, আবৃত্তি ও নান্দনিক মঞ্চায়নের মাধ্যমে দেবীপক্ষের চিরায়ত আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জ্যোতি বিশ্বাসের সুললিত কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ এবং জন্মেজয় রায়ের জীবন্ত তবলা সংগত, যা সমগ্র মিলনায়তনে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বহু দূরে প্রবাসে বাস করেও এই পরিবেশনা উপস্থিত সর্বস্তরের সনাতনী ও সুধী সমাজকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতির শিকড়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মাঝে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান ও মানবিক সম্প্রীতির শিক্ষা সঞ্চালিত করার এক প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়। সিডনির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও ধর্ম-বর্ণের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের সেক্রেটারি দিবাকর সমদ্দার উপস্থিত ভক্ত ও দর্শক, শিল্পী, কলাকুশলী, স্বেচ্ছাসেবী এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে এবং প্রবাসের বুকে বাঙালির এই নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা ঘোষণা করা হয়।
মতামত