ভারতের মথুরায় প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে শিষ্য রাসিক দুলারির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নতুন ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর আশ্রমের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে রাসিকের মৃত্যু হয়, যা প্রথমদিকে পুলিশ আত্মহত্যা বলে ধরে নিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে স্পষ্ট ফুটে ওঠে রাসিক রক্তমাখা পোশাক পরা অবস্থায় নিজ কক্ষ থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে যান এবং সেখানে কিছুক্ষণ শুয়ে-বসে থেকে নিচে পড়ে যান। এই ভয়াবহ ঘটনার আগে তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে গুরুতর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে এবং মানবসত্তা ও অধিকারের জায়গা থেকে ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছে।
মথুরা পুলিশ বর্তমানে এই রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে পরিদর্শনের পাশাপাশি ৮৫ জনের বক্তব্য গ্রহণ করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশ্রমে নতুন কেউ যোগ দেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হতো এবং নতুন ফোন ও সিম কার্ড প্রদান করা হতো। শিষ্যদের মোবাইল ব্যবহারে এমন কঠোর বিধিনিষেধের পেছনে কোনো নজরদারি কিংবা কোনো মানসিক চাপ ছিল কি না, তা এখন গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবার এবং পুরোনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তকারীদের বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
রাসিক দুলারির পরিবার ও তার ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তার মানসিক চাপ, পুরোনো ফোন, নতুন সিম ও ডিজিটাল কল রেকর্ডের তথ্য এখন পরীক্ষার টেবিলে। তার রক্তে কোনো মাদক কিংবা বিষাক্ত ওষুধের উপস্থিতি ছিল কি না, তা জানতেও নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। কোনো আশ্রম বা ধর্মীয় পরিমণ্ডলে শিষ্যদের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আজ এক বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃত সত্য উন্মোচন করে রাসিক দুলারির অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার দিকেই আজ তীক্ষ্ণ নজর রাখছে সবাই।
মতামত