আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের সর্ববৃহৎ সনাতনী ধর্মীয় উৎসব যেন সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে সারা দেশের দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার তীব্র নির্দেশনা দিয়েছেন দেশের প্রধান ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সর্বজনীন মানবাধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ নেতৃবৃন্দ এবং দেশের রাজনৈতিক অভিভাবকমহল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশের ৬৪ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে বিগত কয়েক বছরের সহিংসতার ইতিহাস ও ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর চলা আতঙ্কজনক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে স্পষ্ট করা হয় যে, পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের হামলা, নাশকতা, উসকানি বা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা চালিয়ে সনাতনীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডপ পাহারা দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি ও সনাতনী নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৪ ঘণ্টার স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে মন্দিরের আশপাশে সন্দেহজনক চলাচল রোধে এবং গুজবের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সনাতনী নাগরিকেরা যেন পূর্ণ স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাকে এখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
একই বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়েও বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা প্রদান করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে সনাতনীদের উৎসবের দিনগুলোতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ফ্যাসিবাদী ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রুখতে বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠনের পাশাপাশি দেশজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জোর তাগিদ দেওয়া হয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অসাধু মজুতদারদের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রান্তিক সনাতনী ও সর্বসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের সত্য ইতিহাস উদযাপনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। দেশের স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপূজার উৎসব রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনোভাবেই শঙ্কামুক্ত রাখা বা সনাতনীদের ওপর আঘাত হানা বরদাশত করা হবে না। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া দুর্গাপূজা যেন ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত সনাতনী জনগোষ্ঠীর পূর্ণ মানবাধিকার ও নিরাপত্তা বজায় রেখে শেষ হয়, সে বিষয়ে সমগ্র দেশকে সজাগ ও দায়িত্বশীল থাকার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
মতামত