রাজনৈতিক উত্থান ও প্রথম জীবন
ডাঃ রাকেশ কুমার সিংহ এবং রুমি নাথ ছিলেন এলাকার এক সম্ভ্রান্ত দম্পতি। রাকেশ সিংহ পেশায় একজন সম্মানিত চিকিৎসক হওয়ায় জনমানসে তাদের পরিবারের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ছিল। সেই সুবাদেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন রুমি নাথ এবং বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। স্বামীর পরিচিতি ও নিজের বাচনভঙ্গি তাকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে।
সিদ্দিকী ও জাকির অধ্যায়: বিতর্কের শুরু
রুমি নাথের রাজনৈতিক জীবনে ঝড়ের সূচনা হয় যখন তৎকালীন মন্ত্রী আহমেদ সিদ্দিকীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সুযোগ নিয়ে সিদ্দিকী তাকে প্রভাবিত করেন। এরই মধ্যে রুমি নাথের পরিচয় হয় জ্যাকি জাকির নামক এক যুবকের সাথে।
২০১২ সালে আসামের রাজনীতি তোলপাড় হয়, যখন জানা যায় বিধায়ক রুমি নাথ তার প্রথম স্বামী ও কন্যাসন্তানকে রেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং জ্যাকি জাকিরকে বিয়ে করেছেন। তার নতুন নাম হয় 'রাবিয়া সুলতানা'। এই ঘটনায় তার প্রথম স্বামী ডাঃ রাকেশ সিংহ এবং তার পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রুমি নাথের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
পারিবারিক ভাঙ্গন ও জনরোষ
বিনা বিচ্ছেদে দ্বিতীয় বিবাহের ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে রুমি নাথ এবং জ্যাকি জাকিরকে তীব্র জনরোষের মুখে পড়তে হয়। করিমগঞ্জের একটি হোটেলে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা চালায়। ডাঃ রাকেশ সিংহ তার মেয়েকে নিয়ে উত্তরপ্রদেশে চলে যান। অন্যদিকে, রুমি নাথ দাবি করেন যে তিনি পরিস্থিতির শিকার এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।

জ্যাকি জাকিরের সাথে রুমি নাথের সংসার বেশিদিন টেকেনি। রুমি অভিযোগ করেন, জাকির তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত এবং তার অর্থ আত্মসাৎ করত। নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং জাকিরের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি হিন্দু ধর্মে ফেরার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।
অপরাধ জগত ও গ্রেফতার
রুমি নাথের জীবনের সবথেকে অন্ধকার অধ্যায় শুরু হয় ২০১৫ সালে। কুখ্যাত গাড়ি চোর অনিল চৌহানের সাথে তার সংযোগের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে যে, আন্তর্জাতিক গাড়ি চুরি চক্রের সাথে প্রাক্তন এই বিধায়কের যোগাযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বর্তমান পরিস্থিতি
ধারাবাহিক কেলেঙ্কারি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নাম জড়ানোর ফলে রুমি নাথ জনসমর্থন হারান এবং নির্বাচনে পরাজিত হন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আইনি জালে আবদ্ধ রুমি নাথ বর্তমানে এক বিতর্কিত চরিত্র হিসেবেই পরিচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত এবং অপরাধ জগতের সাথে সংশ্লিষ্টতা একজন সম্ভাবনাময় নেত্রীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে।
মতামত