হিন্দুস নিউজ

ব্রিটিশবিরোধী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি নেই, তবু তিনি আছেন কোটি বাঙালির হৃদয়ে।



ব্রিটিশবিরোধী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।   তিনি নেই, তবু তিনি আছেন কোটি বাঙালির হৃদয়ে।
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬। এই দিনটি ইতিহাসের পাতায় গভীর শ্রদ্ধা আর বেদনাময় স্মৃতির সঙ্গে লেখা থাকবে চিরস্মরণীয় বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের নামের পাশে। ঠিক আজকের এই দিনেই ১৯৩৪ সালে, ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী চট্টগ্রাম কারাগারে নির্মমভাবে ফাঁসি দেয় বাঙালির অহংকার, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম মহানায়ক সূর্য সেনকে।

সূর্য সেনের জন্ম ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ, চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন এবং পরে বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর পেশা ছিল শিক্ষকতা, কিন্তু শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন হাজারো তরুণের অনুপ্রেরণার নাম। এজন্যই সবাই শ্রদ্ধাভরে তাঁকে ডাকতেন ‘মাস্টারদা’ নামে।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদার নেতৃত্বে সংগঠিত হয় ইতিহাসখ্যাত চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযান, যা ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত সামরিক প্রতিরোধ। এই অভিযানে তিনি ব্রিটিশদের অস্ত্রাগার দখল করে কিছুকাল চট্টগ্রামে একপ্রকার স্বাধীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অনন্ত সিং, কালীকিঙ্কর দে, বেনোয়েবিহারী চক্রবর্তীসহ বহু বিপ্লবী তরুণ-তরুণী।

Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

এই বিপ্লবের পর মাস্টারদা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকের সহায়তায় তিনি গ্রেপ্তার হন। তারপর শুরু হয় ব্রিটিশ শাসকদের অমানবিক নির্যাতন। তাঁর শরীরের প্রতিটি হাড় ভেঙে ফেলা হয়, দাঁত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, শরীরের বিভিন্ন অংশ ছেঁড়া হয় নির্মমভাবে। এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভোরে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। ব্রিটিশরা তাঁর মৃতদেহ পর্যন্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি—সেই লাশ সমুদ্রের গভীরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যেন আর কোনো স্মৃতিচিহ্ন না থাকে!

মাস্টারদার কোনো কবর বা সমাধি নেই। কিন্তু বাংলা মাটির প্রতিটি কোণেই তিনি আছেন, বেঁচে আছেন সাহস, আদর্শ আর আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে। তিনি শুধু একজন বিপ্লবী ছিলেন না, ছিলেন এক অদম্য চেতনার নাম—যিনি শিখিয়ে গেছেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে হলে সাহস লাগে, ত্যাগ লাগে, আর সবচেয়ে বড় লাগে জাতির প্রতি ভালোবাসা।

আজ তাঁর ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই মহান বিপ্লবীর আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি। তাঁর জীবন, আদর্শ, সংগ্রাম আজও আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

তাঁর জন্য কোনো সমাধি নেই,  

তবু প্রতিটি বাঙালির মনে তিনি অমর।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ব্রিটিশবিরোধী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি নেই, তবু তিনি আছেন কোটি বাঙালির হৃদয়ে।

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬। এই দিনটি ইতিহাসের পাতায় গভীর শ্রদ্ধা আর বেদনাময় স্মৃতির সঙ্গে লেখা থাকবে চিরস্মরণীয় বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের নামের পাশে। ঠিক আজকের এই দিনেই ১৯৩৪ সালে, ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী চট্টগ্রাম কারাগারে নির্মমভাবে ফাঁসি দেয় বাঙালির অহংকার, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবের অন্যতম মহানায়ক সূর্য সেনকে।

সূর্য সেনের জন্ম ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ, চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হন এবং পরে বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর পেশা ছিল শিক্ষকতা, কিন্তু শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন হাজারো তরুণের অনুপ্রেরণার নাম। এজন্যই সবাই শ্রদ্ধাভরে তাঁকে ডাকতেন ‘মাস্টারদা’ নামে।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদার নেতৃত্বে সংগঠিত হয় ইতিহাসখ্যাত চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযান, যা ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত সামরিক প্রতিরোধ। এই অভিযানে তিনি ব্রিটিশদের অস্ত্রাগার দখল করে কিছুকাল চট্টগ্রামে একপ্রকার স্বাধীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অনন্ত সিং, কালীকিঙ্কর দে, বেনোয়েবিহারী চক্রবর্তীসহ বহু বিপ্লবী তরুণ-তরুণী।

এই বিপ্লবের পর মাস্টারদা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকের সহায়তায় তিনি গ্রেপ্তার হন। তারপর শুরু হয় ব্রিটিশ শাসকদের অমানবিক নির্যাতন। তাঁর শরীরের প্রতিটি হাড় ভেঙে ফেলা হয়, দাঁত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, শরীরের বিভিন্ন অংশ ছেঁড়া হয় নির্মমভাবে। এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভোরে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। ব্রিটিশরা তাঁর মৃতদেহ পর্যন্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি—সেই লাশ সমুদ্রের গভীরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যেন আর কোনো স্মৃতিচিহ্ন না থাকে!

মাস্টারদার কোনো কবর বা সমাধি নেই। কিন্তু বাংলা মাটির প্রতিটি কোণেই তিনি আছেন, বেঁচে আছেন সাহস, আদর্শ আর আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে। তিনি শুধু একজন বিপ্লবী ছিলেন না, ছিলেন এক অদম্য চেতনার নাম—যিনি শিখিয়ে গেছেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে হলে সাহস লাগে, ত্যাগ লাগে, আর সবচেয়ে বড় লাগে জাতির প্রতি ভালোবাসা।

আজ তাঁর ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই মহান বিপ্লবীর আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি। তাঁর জীবন, আদর্শ, সংগ্রাম আজও আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

তাঁর জন্য কোনো সমাধি নেই,  

তবু প্রতিটি বাঙালির মনে তিনি অমর।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ব্রিটিশবিরোধী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি নেই, তবু তিনি আছেন কোটি বাঙালির হৃদয়ে।
0:00 0:00
1.0x