হিন্দু শাস্ত্র মতে, দেবী সরস্বতী হলেন জ্ঞান, বিদ্যা, সংগীত ও শিল্পকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী। বিশ্বাস করা হয়, তিনিই মানবসমাজে ভাষা, বর্ণমালা ও সৃজনশীলতার সূচনা করেন। তাঁর আশীর্বাদে মানুষ লাভ করে প্রজ্ঞা, শুদ্ধ বিবেক ও জ্ঞানার্জনের শক্তি। এ কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে সরস্বতী পূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বসন্ত পঞ্চমী তিথিতে দেবীর আরাধনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যা বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার জন্য তাঁর কৃপা কামনা করে।
শীতল কুয়াশাচ্ছন্ন সকালের পবিত্র আবেশে অনুষ্ঠিতব্য এ পূজা ও বন্দনা অনুষ্ঠানে প্রার্থনা, সংগীত, স্তোত্র পাঠ ও ধ্যানের মাধ্যমে দেবীর আরাধনা সম্পন্ন হবে। আয়োজকদের মতে, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে কেবল ধর্মীয় অনুভূতিই নয়, বরং জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে সনাতনী শিক্ষার্থীবৃন্দ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ মনন, সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে বুদ্ধিজীবী চত্বর পরিণত হবে এক পবিত্র মিলনমেলায়। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আবহে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।
আয়োজকরা জানান, এ অনুষ্ঠান কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের এক সম্মিলিত প্রকাশ। মায়ের বাণী অর্চনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুদ্ধ চিন্তা, প্রজ্ঞা ও মানবিক চেতনার বিকাশ ঘটবে এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
মতামত