কোলহান সিনকু হাসপাতালের শয্যা থেকে সেই ভয়াবহ স্মৃতির বর্ণনা দিয়ে জানান,
"আমি হাতজোড় করে মিনতি করেছিলাম যাতে বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সমাধান করা হয়, কিন্তু আক্রমণকারীরা কোনো কথা শোনেনি।" অভিযোগ উঠেছে, প্রায় এক ডজন মানুষের একটি দল তাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে মা ও শিশুকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামে গবাদি পশুর মৃত্যু এবং পুস্তুন বিরুয়া নামক এক ব্যক্তির অসুস্থতা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পুস্তুন বিরুয়ার স্ত্রী জানান, অর্থের অভাবে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে পারেননি। পরিবর্তে তারা স্থানীয় এক ওঝা বা হাতুড়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেন। সেই ওঝাই দাবি করেন যে, পুস্তনের অসুস্থতা কোনো শারীরিক রোগ নয়। এরপরই গ্রামে গুজব রটে যে জ্যোতি সিনকু ডাইনি বিদ্যা চর্চা করছেন এবং তার কারণেই পুস্তন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুস্তুনের মৃত্যুর পরই এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কোলহান সিনকুর অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার জন্য। পুলিশ আরও জানান, গ্রামীণ এলাকায় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে তারা বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ডাইনি অপবাদে ভারতে ২,৫০০-এরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব এবং চরম কুসংস্কারের কারণে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রতিবেশী রাজ্য বিহারেও একই অপবাদে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছিল।
মতামত