বিবাহিত পুরুষের প্রধান চিহ্ন হলো তার বাম হাতের অনামিকা আঙুলে পরিহিত স্বর্ণের আংটি। বিয়ের সময় কন্যাপক্ষ থেকে বরকে এই আংটি উপহার দেওয়া হয় এবং তা শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে পরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক পুরুষ হারানোর ভয়ে বা অসচেতনতার কারণে বিয়ের পর এই আংটি খুলে রাখেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। জ্যোতিষ শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, অনামিকা হলো 'রবির আঙুল'। রবি বা সূর্য মানুষের আর্থিক ভাগ্য, মান-যশ ও খ্যাতির নিয়ন্ত্রক। কন্যার পিতা-মাতা যখন জামাতার আঙুলে এই আংটি পরিয়ে দেন, তখন মূলত উদ্দেশ্য থাকে জামাতার রবির দশা উন্নত করা। কারণ বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর ভাগ্য একসূত্রে গেঁথে যায়। স্বামীর আর্থিক উন্নতি মানেই স্ত্রীর সুখ ও সচ্ছলতা নিশ্চিত হওয়া।
হাতের পাঁচটি আঙুলেরও রয়েছে স্বতন্ত্র প্রতীকী অর্থ। শাস্ত্রমতে, বৃদ্ধাঙ্গুল পিতার, তর্জনী মাতার, মধ্যমা ব্যক্তির নিজের, অনামিকা জীবনসঙ্গীর (স্বামী বা স্ত্রী) এবং কনিষ্ঠা সন্তানের প্রতীক। এই কারণেই বিয়ের আংটি সবসময় অনামিকা আঙুলেই পরানো হয়। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, বরের ক্ষেত্রে কেন এই আংটি বাম হাতেই পরানো হয়? এর উত্তরও শাস্ত্রে নিহিত। সনাতন বিধি অনুযায়ী, পুরুষের বাম পাশ হলো স্ত্রীর স্থান এবং ডান পাশ হলো সন্তান-সন্ততির স্থান। যেহেতু অনামিকা জীবনসঙ্গীর প্রতীক, তাই স্ত্রীর স্থান নির্দেশক বাম হাতের আঙুলেই এই পবিত্র চিহ্ন ধারণ করা বরের জন্য আবশ্যক।
অতএব, আধুনিকতার স্রোতে গা ভাসিয়ে শাস্ত্রীয় চিহ্নকে অবহেলা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এই আংটি কেবল একটি অলঙ্কার নয়, বরং এটি দাম্পত্যের স্থায়িত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌভাগ্যের প্রতীক। যারা এই প্রাচীন সত্যকে ধারণ করেন, প্রকৃতি ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই তারাই প্রকৃত সুখী ও সুরক্ষিত থাকেন।
মতামত