
জলের ভেতরের এই আধ্যাত্মিকতার সমান্তরালে দিঘীর বিশাল পাড়জুড়ে বসেছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা। মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশ ও বেতের শিল্পকর্ম, কাঁচের চুড়ি থেকে শুরু করে লোকজ খাবারের ম ম গন্ধে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে মাইলের পর মাইল। নাগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ আর শিশুদের কোলাহলে মেলা প্রাঙ্গণ এখন প্রাণবন্ত। এই মেলা কেবল কেনাবেচার মাধ্যম নয়, বরং বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের পুনর্মিলনের এক সেতুবন্ধন হিসেবে গণ্য হয়।
তীর্থস্নান ও মেলা পরিদর্শনে এসে সরকারের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এই জনপদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, সিন্দুরমতি দিঘী এই অঞ্চলের মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের এক সুপ্রাচীন কেন্দ্র। এই ঐতিহাসিক স্থানটির মহিমা অক্ষুণ্ণ রেখে একে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং এই পবিত্র ভূমিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বিকেলের তপ্ত রোদ কিছুটা ম্লান হয়ে এলে দিঘীর শান্ত জলে দীর্ঘ ছায়া পড়ে। তবে মানুষের ঢল তখনও কমেনি। বিশ্বাস আর সংস্কৃতির এই মহামিলন প্রমাণ করে যে, কালজয়ী ঐতিহ্যগুলো আজও এদেশের মানুষের হৃদয়ে কত গভীরে প্রোথিত। দিনের শেষে বাড়ি ফেরা মানুষের চোখেমুখে এক অনাবিল প্রশান্তি দেখা যায়, যা সিন্দুরমতির জল ও মাটির প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
মতামত