মূলত গত বছর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি যখন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে বাকস্বাধীনতা হরণের চেষ্টা করেন, তখনই নেপালের জেন-জি প্রজন্ম ফুঁসে ওঠে। সেই ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ওলি সরকারের পতন ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এক অভাবনীয় ‘ভূমিধস’ বিজয় অর্জন করে। ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তার অভূতপূর্ব সাফল্যই তাকে আজ দেশের শীর্ষতম আসনে বসিয়েছে।
বালেন্দ্র শাহর নবগঠিত মন্ত্রিসভা যেন এক আগ্নেয়গিরি সদৃশ তারুণ্যের সমাহার। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয়ে তিনি স্থান দিয়েছেন নতুন প্রজন্মের মেধাবী সন্তানদের। শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মাত্র ৩০ বছর বয়সী শাশমিত পোখরেল। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন ৩০ বছর বয়সী শবিতা গৌতম, যিনি ২০২২ সালে নেপালের সর্বকনিষ্ঠ এমপি হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। এছাড়া, ২০১৫ সাল থেকে সমাজসেবায় নিয়োজিত এবং গত বছরের জেন-জি অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ৩৭ বছর বয়সী সুদান গৌরাঙ্গকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে বালেন্দ্র শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এখন সাহসের হাতে সুরক্ষিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বালেন্দ্র শাহর এই অভিষেক কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় সনাতন ঐতিহ্য রক্ষা ও স্বচ্ছ রাজনীতির এক নতুন দিগন্ত। তারুণ্যে ঠাসা এই মন্ত্রিসভা নেপালের ঘুণে ধরা সিস্টেমকে আমূল বদলে দেবে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার পথে এগিয়ে যাবে—আজ কাঠমান্ডুর রাজপথে সাধারণ মানুষের চোখেমুখে সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
মতামত