ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়াটাই আলোচনার প্রধান অন্তরায়। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই মারণাস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও ভিন্ন এক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক বছরে দুটি বড় যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পারমাণবিক শক্তি অর্জনের সমর্থকদের পাল্লা ভারী হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বৈঠকের এই ঐতিহাসিক সুযোগটি শেষ পর্যন্ত কূটনীতির একটি চরম ব্যর্থতা হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকার পথে এগোচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কতদিন টিকে থাকে নাকি বিশ্ব আরেকটি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাক্ষী হয়।
ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ- এখন কি হবে?
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুদ্ধের জয়-পরাজয় নিয়ে উভয় পক্ষের অনড় অবস্থান এবং পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূলত সংঘাতের পর উভয় দেশই নিজেদের বিজয়ী দাবি করে আলোচনায় বসেছিল, যা একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর পথকে শুরু থেকেই কণ্টকাকীর্ণ করে তোলে।
গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া কঠোর ‘ধ্বংসাত্মক’ হুমকির প্রেক্ষাপটে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। ইরানি সভ্যতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন হুমকির পর শুরু হওয়া এই আলোচনা শেষে কোনো পক্ষই ইতিবাচক বার্তা দিতে পারেনি। বিবিসি সংবাদদাতা জো ইনউডের মতে, ইরানের ওপর নতুন করে হামলার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিল থেকে কার্যত ছিটকে পড়েছে। পারস্য উপসাগরে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সাম্প্রতিক মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন হয়তো এখন কূটনীতির চেয়ে শক্তির পথকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত