পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রথমে পথ জিজ্ঞেস করার অছিলায় দুই নিরাপত্তারক্ষী—রাজকুমার মিশ্র ও সুব্রত সেনকে থামায়। এরপর তাদের ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করে এবং ‘কলমা’ পাঠ করতে বলে। তারা তা করতে না পারলে আচমকাই ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় দুইজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই হামলার ধরন তথাকথিত ‘লোন উলফ অ্যাটাক’-এর সঙ্গে মিল রয়েছে, যেখানে কোনও সংগঠনের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ছাড়াই ব্যক্তি বিশেষ চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে হামলা চালায়। এই ধরনের হামলায় লক্ষ্য বাছাইয়ের আগে ভুক্তভোগীর পরিচয় বা ধর্ম যাচাই করার প্রবণতাও দেখা যায়।
অভিযুক্ত জইব জুবের আনসারি শিক্ষিত এবং পেশায় কেমিস্ট্রি টিউটর। তদন্তে উঠে এসেছে, সে কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে ছিল এবং ২০১৯ সালে ভারতে ফিরে আসে। বিদেশে পেশাগত ব্যর্থতা ও মানসিক চাপে সে ধীরে ধীরে চরমপন্থী মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ে বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের।
পুলিশ তার বাড়ি থেকে ডায়েরি ও কিছু নথি উদ্ধার করেছে, যেখানে উগ্রপন্থী চিন্তার ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে ‘জেহাদ’, ‘গাজা’ ও ‘আইসিস’-সংক্রান্ত উল্লেখ তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমানে মহারাষ্ট্র পুলিশের এটিএস খতিয়ে দেখছে, এই হামলার পেছনে কোনও বৃহত্তর নেটওয়ার্ক বা হ্যান্ডলার জড়িত রয়েছে কি না, নাকি এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে পরিকল্পিত। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই হামলা আবারও প্রশ্ন তুলছে—অনলাইনে ছড়ানো উগ্রপন্থী চিন্তাধারা কীভাবে শিক্ষিত যুবকদেরও প্রভাবিত করছে এবং সমাজের নিরাপত্তার জন্য কতটা বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন কার্যকলাপের উপর নজরদারিও এখন সময়ের দাবি।
মতামত