বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং সিবিএসইর দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়নে চরম অনিয়মের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে দেশটির কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ। সনাতন ধর্ম এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো সততা, ন্যায়বিচার এবং প্রত্যেকের যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন। তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও অধিকার হরণের এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবার রাজপথে নেমেছে ভারতের জনপ্রিয় ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা party’ (সিজেপি)। দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও ভবিষতের অধিকার রক্ষার দাবিতে আজ শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে এক বিশাল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এই যুব সংগঠনটি। তাদের স্পষ্ট দাবি, প্রশ্নফাঁস ও মূল্যায়নে অনিয়মের মতো গুরুতর অপরাধের নৈতিক দায় নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
মেধাবী তরুণদের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনের ডাক দিয়ে ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত কর্তৃক এক শুনানিতে সরকার-সমালোচনাকারী কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করার প্রতিবাদে গত ১৬ মে এই অনন্য ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটির জন্ম হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এই প্লাটফর্মটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশটির অনেক মূলধারার রাজনৈতিক দলের চেয়েও বেশি। ‘তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম’—এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে সংগঠনটি এখন ভার্চুয়াল জগৎ থেকে রাজপথের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনেও এই আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সিজেপি নেতার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
মানবাধিকারের এই শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ে অংশ নিতে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দিল্লির জন্তর মন্তরের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দিল্লির সমস্ত প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং ১ হাজারের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিজেপির নবনিযুক্ত মুখপাত্র সৌরভ দাস, বিজেতা দাহিয়া ও আশুতোষ রানকা জানিয়েছেন যে, তারা দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীদের হাতে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি একটি করে বই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা বিশ্বজনীন শান্তি ও অহিংসার সনাতন নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
মতামত