হিন্দুস নিউজ

​আট দশকের প্রথা ভেঙে সৌদিতে প্রথম অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ভারতের


| প্রিন্ট সংস্করণ

​আট দশকের প্রথা ভেঙে সৌদিতে প্রথম অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ভারতের
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
দীর্ঘ প্রায় আট দশক ধরে চলা প্রচলিত কূটনৈতিক নিয়মে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করে সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো একজন অমুসলিম কূটনীতিককে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারত। ১৯৪৮ সালের পর এই প্রথম কোনো অমুসলিমকে রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে ভারতের বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের কৌশলগত এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৮ ব্যাচের অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শ্রী বিপুলকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুবাই, কায়রো ও জেনেভার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্টেশনগুলোতেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফলে যোগ্যতার নিরিখে তার এই পদায়ন আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।


​ঐতিহাসিকভাবে, গত প্রায় আট দশক ধরে নয়াদিল্লি কেবল মুসলিম কূটনীতিকদেরই সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত এবং জেদ্দায় কনসাল জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আসছিল। এই দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ ছিল মাঠপর্যায়ের বিশাল হজ ব্যবস্থাপনা। ইন্দোনেশিয়ার পর ভারত থেকেই প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি—প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার মুসলিম হজে যান। এই বিশাল সংখ্যক পুণ্যার্থীর ব্যবস্থাপনা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ের জন্য ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে মক্কা, মদিনা কিংবা মিনার মতো পবিত্র স্থানগুলোতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হতো। যেহেতু মক্কা ও নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ ধর্মীয় এলাকায় অমুসলিমদের প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত নয়, তাই অতীতে ১৯৯৭ সালের মিনার অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় কোনো ট্র্যাজেডি বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে অমুসলিম রাষ্ট্রদূতের পক্ষে সেখানে গিয়ে তাৎক্ষণিক সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। মূলত এই ব্যবহারিক, মাঠপর্যায়ের সুবিধা ও ভাষাগত দক্ষতার কারণেই এতদিন রিয়াদের ভারতের রাষ্ট্রদূত পদে মুসলিম কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের পররাষ্ট্র ক্যাডারে (আইএফএস) এই নির্দিষ্ট পদের জন্য যোগ্য এবং জ্যেষ্ঠ মুসলিম কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যোগ্য প্রার্থীর এতটাই অভাব দেখা দিয়েছিল যে, বিগত বছরগুলোতে সরকারকে বর্তমান রাষ্ট্রদূতদের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হয়েছিল। এমনকি ২০১৬ সালের দিকে উপযুক্ত পেশাদার কূটনীতিক না পেয়ে বাধ্য হয়ে কূটনৈতিক সার্ভিসের বাইরে থেকে মুম্বাইয়ের সাবেক পুলিশ কমিশনার আহমদ জাভেদকে রাষ্ট্রদূত করে রিয়াদে পাঠাতে হয়েছিল। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা যোগ্যতার এই কৃত্রিম সংকট এবং যোগ্য অমুসলিম কর্মকর্তাদের প্রাপ্য অধিকারের বঞ্চনা দূর করে এবার সম্পূর্ণরূপে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শ্রী বিপুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে আধুনিক বৈশ্বিক কূটনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে একজন যোগ্য ব্যক্তির মেধা, সমতা এবং অধিকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

​তাছাড়া সমসাময়িক ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরব এখন আর ভারতের কাছে কেবল তেল আমদানি বা প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোর সাধারণ কোনো গন্তব্য নয়। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অধীনে সৌদি আরব এখন প্রযুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বড় বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং সংস্কৃতির এক বিশ্বব্যাপী আধুনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এখন রিয়াদ। এমন এক পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যার অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতা সবচেয়ে বেশি, তাকেই এই শীর্ষ দায়িত্ব দেওয়াকে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যোগ্যতার এই মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


​আট দশকের প্রথা ভেঙে সৌদিতে প্রথম অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ভারতের

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image
দীর্ঘ প্রায় আট দশক ধরে চলা প্রচলিত কূটনৈতিক নিয়মে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করে সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো একজন অমুসলিম কূটনীতিককে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারত। ১৯৪৮ সালের পর এই প্রথম কোনো অমুসলিমকে রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে ভারতের বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের কৌশলগত এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৮ ব্যাচের অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শ্রী বিপুলকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুবাই, কায়রো ও জেনেভার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্টেশনগুলোতেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফলে যোগ্যতার নিরিখে তার এই পদায়ন আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।


​ঐতিহাসিকভাবে, গত প্রায় আট দশক ধরে নয়াদিল্লি কেবল মুসলিম কূটনীতিকদেরই সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত এবং জেদ্দায় কনসাল জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আসছিল। এই দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ ছিল মাঠপর্যায়ের বিশাল হজ ব্যবস্থাপনা। ইন্দোনেশিয়ার পর ভারত থেকেই প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি—প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার মুসলিম হজে যান। এই বিশাল সংখ্যক পুণ্যার্থীর ব্যবস্থাপনা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ের জন্য ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে মক্কা, মদিনা কিংবা মিনার মতো পবিত্র স্থানগুলোতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হতো। যেহেতু মক্কা ও নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ ধর্মীয় এলাকায় অমুসলিমদের প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত নয়, তাই অতীতে ১৯৯৭ সালের মিনার অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় কোনো ট্র্যাজেডি বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে অমুসলিম রাষ্ট্রদূতের পক্ষে সেখানে গিয়ে তাৎক্ষণিক সমন্বয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। মূলত এই ব্যবহারিক, মাঠপর্যায়ের সুবিধা ও ভাষাগত দক্ষতার কারণেই এতদিন রিয়াদের ভারতের রাষ্ট্রদূত পদে মুসলিম কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

​তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের পররাষ্ট্র ক্যাডারে (আইএফএস) এই নির্দিষ্ট পদের জন্য যোগ্য এবং জ্যেষ্ঠ মুসলিম কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যোগ্য প্রার্থীর এতটাই অভাব দেখা দিয়েছিল যে, বিগত বছরগুলোতে সরকারকে বর্তমান রাষ্ট্রদূতদের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হয়েছিল। এমনকি ২০১৬ সালের দিকে উপযুক্ত পেশাদার কূটনীতিক না পেয়ে বাধ্য হয়ে কূটনৈতিক সার্ভিসের বাইরে থেকে মুম্বাইয়ের সাবেক পুলিশ কমিশনার আহমদ জাভেদকে রাষ্ট্রদূত করে রিয়াদে পাঠাতে হয়েছিল। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা যোগ্যতার এই কৃত্রিম সংকট এবং যোগ্য অমুসলিম কর্মকর্তাদের প্রাপ্য অধিকারের বঞ্চনা দূর করে এবার সম্পূর্ণরূপে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শ্রী বিপুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে আধুনিক বৈশ্বিক কূটনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে একজন যোগ্য ব্যক্তির মেধা, সমতা এবং অধিকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

​তাছাড়া সমসাময়িক ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরব এখন আর ভারতের কাছে কেবল তেল আমদানি বা প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোর সাধারণ কোনো গন্তব্য নয়। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অধীনে সৌদি আরব এখন প্রযুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বড় বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং সংস্কৃতির এক বিশ্বব্যাপী আধুনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এখন রিয়াদ। এমন এক পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যার অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতা সবচেয়ে বেশি, তাকেই এই শীর্ষ দায়িত্ব দেওয়াকে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যোগ্যতার এই মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
​আট দশকের প্রথা ভেঙে সৌদিতে প্রথম অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ভারতের
0:00 0:00
1.0x