পবিত্র চণ্ডীপাঠ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, কাঁসা-শঙ্খ আর ঢাকের মঙ্গলালোকের মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে আজ বিশ্বজুড়ে আবাহন ঘটলো পরমেশ্বরী দেবী দুর্গার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম আরাধ্য শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ লগ্ন তথা মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত হয় এক ভাবগম্ভীর ও ভক্তিময় অনুষ্ঠান। শুভ দেবীপক্ষের এই প্রারম্ভে জাতীয় মন্দিরে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে উৎসবের প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শনিবার ভোরে ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সার্বিক উদ্যোগে আয়োজিত এই মহতি অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করেন।
সনাতন শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মহালয়ার শুভ প্রহরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আগমন ও অসুরনাশিনী রূপ ধারণের আকুল আবেদন জানানো হয়। ভোর থেকেই ভক্তিভরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে তিল-তর্পণ ও বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন অগণিত ভক্তবৃন্দ, যেখানে পিতৃপুরুষের আত্মাশান্তির কামনার পাশাপাশি সার্বজনীন বৈশ্বিক শান্তি ও সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার সুসংহত করার প্রার্থনা জানানো হয়। এই ভাবগম্ভীর মুহূর্তে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভারতের রাষ্ট্রদূত সনাতনীদের সর্ববৃহৎ উৎসবের আনন্দ উদযাপনে শরিক হন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাধে সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বজনীন মানবাধিকার রক্ষার এক অনন্য বারতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা দেশে এবার মহা ধুমধামে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে উদযাপিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পরমাদ্যা শক্তি মহামায়া দুর্গা দেবী মর্ত্যে পদার্পণের মাধ্যমে মানবজাতিকে সকল প্রকার অশুভ শক্তি ও নিপীড়ন থেকে রক্ষা করে ন্যায় ও শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা করবেন। পঞ্জিকার নিয়ম অনুসারে আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গোৎসবের মূল আনন্দধারা শুরু হয়ে আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে মহামায়ার প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এই পুণ্যময় উৎসবের।
মতামত