ইরানের রাজধানী তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে ভয়াবহ রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিন–এর বরাতে জানা গেছে, এক রাতেই তেহরানে কমপক্ষে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শতাধিক।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকে রাজধানীজুড়ে আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়।
টাইম ম্যাগাজিনকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুধু রাজধানীর ছয়টি বড় হাসপাতালে ২০৬ জন নিহতের রেকর্ড রয়েছে। এদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। নিহতদের বড় একটি অংশ তরুণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসক আরও জানান, শুক্রবার সকালেই এসব মরদেহ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আড়াল করা যায়। উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান দিয়ে ব্রাশফায়ার করা হয়। সেখানে অন্তত ৩০ জন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইতোমধ্যে ইরানের ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ভয়াবহ দমন–পীড়নের পরও শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ আবার রাস্তায় নেমে আসে।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি এই তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইরানে বিক্ষোভ দমনে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অভিযান হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকার আন্দোলন দমনে কোনো রকম সংযম দেখাচ্ছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরান সরকারকে “চড়া মূল্য” দিতে হবে। তবে সেই হুমকি উপেক্ষা করেই তেহরানে এই ভয়াবহ দমন অভিযান চালানো হয়েছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
তবে টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ইরানের কড়াকড়ি ও সেন্সরশিপের কারণে এই হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবুও চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
মতামত